ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনো রাজধানীর বাজারগুলোতে বেচাকেনা সেভাবে জমেনি। এখনো বেশ কিছু দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। ক্রেতার সংখ্যাও কম। তবে বাড়তি চাহিদার কারণে ঈদে যেসব মাংসের দাম বেড়েছিল তার মধ্যে ব্রয়লার মুরগি ছাড়া সোনালি মুরগি, গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনো চড়া রয়েছে। ঈদের ঠিক দুইদিন আগে থেকে গরুর মাংসের দাম বেড়ে ৯০০ টাকা কেজিতে ঠেকেছিল। এখন কিছুটা কমে এলেও প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। অন্যদিকে, বাজারে ঈদের আগের মতোই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট রয়ে গেছে। শুক্রবার
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে। যা ঈদের দুই-তিনদিন আগে থেকেই ঈদ পর্যন্ত ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা উঠেছিল। কিন্তু ওই সময়ে একইভাবে বেড়ে যাওয়া সোনালি মুরগির দাম কমেনি। এখনো বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা।
মুরগির দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে রাজধানীর কল্যাণপুর নতুন বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, মূল কারণ হচ্ছে ঈদের সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে জ্বালানি তেলের সংকটের জন্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। এ কারণেও দাম বাড়ছে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুরগির দাম কমে আসবে।
অন্যদিকে, এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। ঈদের আগেই এই দাম বেড়েছিল। আগে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় এক কেজি গরুর মাংস কেনা যেতো।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে গরুর মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বেড়েছে। এখনো প্রত্যন্ত এলাকার বাজারগুলোতে গরুর আমদানি সেভাবে বাড়েনি, যে কারণে দাম কমছে না।
মাংস বিক্রেতা জাফর বলেন, আরও কিছুদিন এই দাম থাকবে। আবার সামনে কোরবানির ঈদ। এর মধ্যে গরুর দাম যদি না কমে তাহলে হয়তো মাংসের দাম আর না-ও কমতে পারে। একইভাবে বাজারে এখন খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি দরে। যা ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে আরও ৫০-১০০ টাকা কমে কেনা যেতো। তবে এখন বাজারে ফার্মের ডিমের দাম খানিকটা কমেছে। প্রতি ডজন ডিম বাজারভেদে ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যা ঈদের ছুটির আগে ছিল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।
এদিকে ভোজ্য তেলের বাজারে আবারো নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ রীতিমতো বন্ধ রেখেছে। এ কারণে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরেও এক লিটার বা দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে পারছে না। সংকটের সুযোগে মুদি দোকানদাররা খোলা সয়াবিন তেল বোতলে ভরে বেশি দামে বিক্রি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করায় ব্যবসায়ীরা সরবাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে এখন সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫-২০০ টাকা (বোতল) এবং খোলা তেল ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রোজার মধ্যেও প্রতি কেজি পিয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও ঈদের মধ্যে দাম বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি হয়েছিল। এখন কেজিতে ৫ টাকা কমলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামেই। পিয়াজ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পিয়াজের দাম বেড়েছে।
এদিকে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে কয়েকটি পণের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে ঈদের ছুটির আগে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ টাকায়। যা এখন মান ও জাতভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের ছুটির আগে প্রতি কেজি শসার দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে টমেটোর দাম। ৩৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি শিম ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, ছোট আকারের প্রতিটি মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দল, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটির মধ্যে সরবরাহ কিছুটা কম থাকার কারণে দামও বেড়েছে। এ ছাড়া উৎসবের কারণে ছুটির মধ্যে পরিবহনের ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে এসব পণ্যের দামে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে এলে সবকিছুর দাম আবারো কমে আসবে।
সবজি বিক্রেতারা বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ এখন স্বাভাবিক। পাইকারিতে দাম কম থাকায় খুচরা বাজারেও দাম কিছুটা কমেছে। তবে সরবরাহ কমে গেলে আবারো দাম বাড়তে পারে।
মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। পোয়া মাছ ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০, পাঙাশ ২৪০ থেকে ২৬০ এবং রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট গলদা চিংড়ি ১ হাজার টাকা এবং বড় গলদা ১ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া টেংরা মাছ ৭০০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে সরু চাল ৭৫-৮০ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা এবং গুটি চাল ৫৫ টাকা কেজি। মসুর ডাল ১০০-১৮০ টাকা, মুগ ডাল ১৭০ টাকা, মটর ডাল ১৬০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
