সিলেটে প্রার্থী তালিকা দীর্ঘ বিএনপি’র

সিটি নির্বাচন

সিলেটে প্রার্থী তালিকা দীর্ঘ বিএনপি’র

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কঠিন সমীকরণে পড়েছিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সাবেক মেয়র। এমপি হবেন না, মেয়র থাকবেন। দোটানায় কেটেছে অনেকদিন। দলের সিদ্ধান্ত মানলেন। এমপিই হলেন। বর্তমানে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। আরিফের এই সিদ্ধান্তে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন সিলেট বিএনপি’র অনেক নেতা। আরিফ ভীতি তাদের মধ্য থেকে কেটে গেছে। সামনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার বিএনপি থেকে নতুন মুখই হবেন মেয়র প্রার্থী। 
তিনি কে? আগে থেকেই মাঠে অনেকেই। রমজান থেকে আবার নতুন নতুন নেতারা লড়াইয়ে নামার জানান দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ১০ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। কেউ আছেন সরবে, আবার কেউ নীরবে। তাদের উপরে দুই মন্ত্রী। তাদেরও মতামত এখানে গুরুত্ব পাবে। তবে দু’জনের পছন্দ যে এক হবে- সেটি এখনই বলা মুশকিল।

সিলেট সিটির মসনদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। নগর যে দলের সিলেটও তার- এমন রীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সিলেট থেকে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এরপর শূন্যস্থানে প্রশাসক হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজাউন নবীকে বসিয়েছিল প্রশাসন। বেশ কয়েকটি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি রীতিমতো হিমশিম খান। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তার নেতৃত্বে চলছে কার্যক্রম। সিটি করপোরেশনের কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে আসতে শুরু করেছে। বেড়েছে নাগরিক সেবাও। কয়েক মাস পরেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরই মধ্যে সিলেটে নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী দলের মনোনয়ন পেলে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে চান। সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সবার অনুমতি নিয়ে মাঠে নামলেও আরিফুল হক চৌধুরীর মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ায় তিনি থেমে যান। এখন সিটি নির্বাচনেই তার তার চোখ।

বর্তমান নগর বিএনপি তার হাতেই সাজানো। কঠিন সময়ে তিনি সিলেটে দলকে সুসংগঠিত করেছিলেন। ফলে দলের তৃণমূলে তার শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। প্রশাসক হওয়ার পর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে নিয়েও স্বপ্ন বুনছেন অনেকেই। তিনিও প্রস্তুতি শুরু করেছেন। সাইফুর রহমানের ছায়াসঙ্গী থেকে বদলে যাওয়া সিলেটকে দেখেছেন কাছ থেকে। দল থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে তিনি সিটির প্রশাসক ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে মেয়র হওয়ার জন্য ভোটযুদ্ধে নামবেন। এমন আভাসই ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। তিনি হাঁটছেন নির্বাচনের পথে। মেয়র পদে অনেক আগে থেকেই আলোচনায় নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। একাধিকবারের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র। অভিজ্ঞতা রয়েছে। নগরেরও বড় পদ সামলাচ্ছেন। ফলে হিসেবের খাতায় তিনি অনেক এগিয়ে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। কয়েস লোদীও নিজ থেকে প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। বিগত সংসদ নির্বাচনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী এজেন্ট থেকে রিহার্সেলও সেরে নিয়েছেন। নাসিম হোসাইন, নগর বিএনপি’র সভাপতি হলেও তার পদ কার্যকর নয়। ভারপ্রাপ্ত চালাচ্ছেন দল।

এক সময় তিনি দলের টিকিটের জন্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে পাল্লা দিয়েছিলেন। এবার আগে থেকেই মাঠে। ব্যানার, বিলবোর্ড লাগিয়ে নির্বাচনের জানান দিচ্ছেন। আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকি নগর বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক। দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। সাবেক কমিশনার ও প্যানেল মেয়র ছিলেন। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনিও চান দলের মনোনয়ন। ইতিমধ্যে প্রচার, প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান সিলেট বিএনপি’র এক ত্যাগী নেতা। ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক। সিলেট-৪ আসনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন।

তাকে ঘিরে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এমদাদ হোসেন চৌধুরী হচ্ছেন নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। পরিচিত মুখ। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে তার। নগরে বর্তমান সময়ে যে ক’জন নেতা নানা ইস্যুতে বিষয়গুলো ‘ট্যাকল’ দিচ্ছেন তার মধ্যে এমদাদ হোসেন চৌধুরী একজন। মানুষের দুর্দিন, দুর্বিপাকে তিনি সহায়তা নিয়ে পৌঁছে যান মানুষের দ্বারে দ্বারে। ঈদ মৌসুমে প্রচারণায় তিনি এগিয়ে ছিলেন। একেবারেই নতুন মুখ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী। ঈদ থেকে মাঠে তিনি। সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছের জন হিসেবে পরিচিত। বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়েও তার সম্পর্ক। প্রার্থী হওয়ার প্রাথমিক ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছেন সবাই। দিন দিন তার প্রচারণার মাত্রা বাড়ছে। এ ছাড়া, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারের পক্ষে মেয়র পদে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

Kawsar Hussain Rocky

২ মাস আগে

ইনশাআল্লাহ সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে একটাই চাওয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি জনাব মিফতাহ সিদ্দিকী

মন্তব্য করুন