জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আরও এক জাহাজ

জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আরও এক জাহাজ

ফন্ট সাইজ:

৩০ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ‘এমটি গ্রান কুভা’- নামের একটি জাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল। ইউনিপেক নামের চীনের একটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী এ জ্বালানি সরবরাহ করেছে। গত বৃহস্পতিবার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। শুক্রবার এ তেল খালাসের কথা রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর গত ২৭ দিনে জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাস বোঝাই ৩০টি জাহাজ নোঙর করেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, আমদানিকৃত ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সরবরাহ করা হবে। সমপ্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিলম্বের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে মোট ১৭টি জাহাজে তেল আসার কথা থাকলেও এর আগে পৌঁছেছে আটটি। সর্বশেষ এ চালানসহ আরও একটি জাহাজ যুক্ত হয়েছে, তবে বাকি ছয়টি জাহাজের আগমনের সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত। বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজটি দেশে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিপিসি’র জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ২৬শে মার্চ পর্যন্ত ২ লাখ টন ডিজেল মজুত আছে। নতুন আসা ১০ হাজার লিটার ডিজেল এর সঙ্গে যুক্ত হবে। আমদানি করা ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে  বিমানবন্দরগুলোতে। ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, জেট ফুয়েলসহ ৫ ক্যাটাগরির জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ করে বিপিসি। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত তেল ও পাইপলাইনে থাকা তেলে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত সামাল দেয়া যাবে। উল্লেখ্য, বিপিসি সাধারণত সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয় ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ আটটি দেশ থেকে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন