কালোবাজারিরা তেল নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের  চেষ্টা করছে

কালোবাজারিরা তেল নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করছে

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে সারাবিশ্ব এখন জ্বালানি সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কিছু কালোবাজারি তেল বিক্রি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুক্রবার (২৭শে মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যে সারা বিশ্ব, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। আমাদের উৎস হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে সমাধানের জন্য কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত সরকার সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু মানুষের মধ্যে একটা প্যানিক কাজ করছে। এটা করতে দেয়া যাবে না। প্রতিদিন যে তেল সাপ্লাই হতো, এখন তাই হচ্ছে, তার চেয়ে বেশিও হচ্ছে। কিন্তু কিছু কালোবাজারি এটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত তেল নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সচেষ্ট থাকতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এখন কোনো রেশন দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমাদের কৃচ্ছ্র সাধন করতে হবে। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সংযম থাকতে হবে। সবাই মিলে সমাধান দিতে হবে।

Jalaluddin Md Abdul Hye

২ মাস আগে

মহা সংকটে - আমাদের হতদরিদ্র অর্থনীতি - ভর্তুকি দিয়ে উত্তরণ সম্ভব নয়।
⚠️ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সতর্কতা: ভর্তুকির বোঝা ও আমাদের উন্নয়ন সংকট
বর্তমান বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার প্রভাব শুধুমাত্র দ্রব্যমূল্যের ওপর নয়, বরং আমাদের দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের ওপর পড়ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি আশঙ্কাজনক দিক ফুটে ওঠে:
১. উন্নয়ন প্রকল্প বনাম ভর্তুকির লড়াই: 🏗️📉
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে প্রায় ১,২৫,৭৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এই বিশাল অর্থ যদি অনুৎপাদনশীল ভর্তুকিতে ব্যয় হয়, তবে এই মুহূর্তে জরুরি নদী প্রবাহ ভিত্তিক ব্যারেজ প্রকল্প বা কৃষি আধুনিকায়নের মতো মেগা প্রকল্পগুলো অর্থের অভাবে ঝুলে যায়। ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে শুকনো মৌসুমকে অন্তত দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল, যা আমাদের সেচ ও মৎস্য সম্পদের জন্য বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনত। কিন্তু ভর্তুকির চাপে এই ‘লাইফলাইন’ প্রকল্পগুলোই এখন অর্থ সংকটে।
২. খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি সংকট: 🌾🚜
কৃষি প্রকল্পগুলোর সঠিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) ব্যাহত হওয়ায় সেচ ও সারের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু ভর্তুকিযুক্ত সার যদি সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান হয়ে যায়, তবে দেশের কৃষক বঞ্চিত হয় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে আমদানিনির্ভরতা বাড়ে, যা মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার (ডলার) ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
৩. তেল-সোনা ও মুদ্রাস্ফীতির ফাঁদ: ⛽📉
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ে। এই মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায়, যার ফলে সোনার দাম সাময়িক কমে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যা হলো—সুদভিত্তিক সঞ্চয় প্রকল্পগুলো মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়ে কম মুনাফা দিচ্ছে। অর্থাৎ, দিনশেষে আপনার জমানো টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমছে, যা কার্যত একটি বড় লোকসান।
৪. ২০২৬-এর এলডিসি (LDC) চ্যালেঞ্জ: 🇧🇩
২০২৬ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে আন্তর্জাতিক নিয়মে অনেক ভর্তুকি ও রপ্তানি প্রণোদনা বন্ধ করতে হবে। সেই সময়ে যদি আমাদের নিজস্ব কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা (ব্যারেজ প্রকল্প) শক্তিশালী না থাকে, তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাণিজ্যিক চাপের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
৫. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) ও তারল্য সংকট: 💹
সরকার ভর্তুকির টাকা জোগাড় করতে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়ায় বাজারে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগ কমেছে এবং শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে শেয়ারবাজারের নিম্নমুখী সূচকে।
আমাদের করণীয় ও দাবি:

* ভর্তুকি থেকে বিনিয়োগে স্থানান্তর: ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে সেই অর্থ নদী শাসন, ব্যারেজ নির্মাণ ও টেকসই কৃষি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা জরুরি। এটি দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন খরচ কমিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করবে।
* রক্ষণাবেক্ষণে জোর: বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে যাতে রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় না হয়।
* বিকল্প বিনিয়োগ: সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুদের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ (Asset) বা শরিয়াহ-ভিত্তিক লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্বমূলক খাতে বিনিয়োগের কথা ভাবুন।

সারসংক্ষেপ: ভর্তুকি দিয়ে সাময়িকভাবে দাম ধরে রাখা সম্ভব হলেও, এটি আমাদের ভবিষ্যতের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে গিলে খাচ্ছে। নদী ও কৃষিকে বাঁচাতে হলে এখন আমাদের কাঠামোগত সংস্কারের দিকে নজর দিতেই হবে।
সরকারের উচিত এখনই উপযুক্ত কৃত্বপেশাভিত্তিক বাস্তব অভিজ্ঞান (একাডেমিক নয়) সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ নিয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন আপদকালীন কমিশন নিয়োগ দেয়া।
------------------------------

মন্তব্য করুন