নিভে গেল জাবি’র এক মেধাবীর স্বপ্ন, মায়ের পাশেই সমাহিত তাহমিদ

নিভে গেল জাবি’র এক মেধাবীর স্বপ্ন, মায়ের পাশেই সমাহিত তাহমিদ

ফন্ট সাইজ:

দুর্ঘটনায় নিভে গেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আহনাফ তাহমিদ খানের (২৫) স্বপ্ন। থেমে গেল পরিবারের হাসি। ভবিষ্যতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার আগেই চিরনিদ্রায় মায়ের পাশেই হলো তার শেষ ঠিকানা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে ছিল রাইয়ান। ঈদের ছুটি শেষে মা, বড় বোন ও বোনের ছোট মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না-যাত্রাপথই হয়ে উঠলো শেষ গন্তব্য।

দুর্ঘটনায় ভাগ্যক্রমে প্রাণে বাঁচেন বড় বোন ডা. নুসরাত জাহান খান সাবা। কিন্তু তাহমিদ খান ও তার মা রেহেনা আক্তার (৫৯) এবং ছোট্ট ভাগ্নি আর ফিরে আসেনি। পরে উদ্ধার করা হয় মায়ের নিথর দেহ। একই পরিবারের তিনটি প্রাণ একসঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার নির্মম ঘটনায় শোকাহত পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী। পরিবারের স্বজনরা জানান, আহনাফ তাহমিদ খান ছিল বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। রাজবাড়ীর ভবানীপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে তিনি। তবে শুধু পরিবারেরই নয়, পরিচিত সবার কাছেই তিনি ছিলেন এক সম্ভাবনাময় তরুণ। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার বাবা। বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান রাইয়ান। বিতর্কের মঞ্চে ছিল তার দৃপ্ত উপস্থিতি। রাজবাড়ী ডিবেট এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে যুক্তির লড়াইয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। জাবি ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবেও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ।

রাইয়ানকে স্মরণ করে রাজবাড়ী ডিবেট এসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই রাইয়ান বিতর্ক করতো। অত্যন্ত মেধাবী ও স্বপ্নবান ছেলে ছিল। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক আশা ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী, বন্ধু ও শিক্ষকদের চোখে একটাই প্রশ্ন-এত স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা একটি জীবন এভাবে থেমে যেতে পারে? যে তরুণ যুক্তির ভাষায় সমাজকে বদলাতে চেয়েছিল, তার কণ্ঠ আজ নীরব। দৌলতদিয়া ঘাটে এখনো ভিড় করছে মানুষ। কেউ খোঁজ নিচ্ছে, কেউ অপেক্ষা করছে-হয়তো অলৌকিকভাবে ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া প্রাণগুলো। কিন্তু সময় যত পেরোচ্ছে, ততই ভারী হয়ে উঠছে বাতাস, আরও গভীর হচ্ছে শোক। শেষ পর্যন্ত পদ্মার বুকে হারিয়ে যাওয়া সেই তরুণকেই ফিরতে হলো নিথর হয়ে। মায়ের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে। একই কবরস্থানে পাশাপাশি শুয়ে আছেন মা ও ছেলে- যেন জীবনের সব পথ পেরিয়ে শেষ আশ্রয়টাও হলো একসঙ্গেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন