বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা এবং হরমুজ প্রণালী অবরোধ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ভারত

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত মোদির

বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা এবং হরমুজ প্রণালী অবরোধ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ভারত

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার লোকসভায় বলেছেন, এই যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী পরিণতি হবে এবং ভারতকে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশন চলাকালে তিনি পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রধান দিকগুলো এবং এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী তার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “সরকার সতর্ক, সহানুভূতিশীল এবং সব ধরনের সাহায্য করতে আগ্রহী।”
দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর এই সংকটের প্রভাব পর্যালোচনা এবং নাগরিক ও ব্যবসার জন্য অসুবিধা কমানোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার পর মোদি সোমবার লোকসভায় বক্তব্য রাখেন।
রোববারের পর্যালোচনায বৈঠকে কৃষি, সার, খাদ্য নিরাপত্তা, পেট্রোলিয়াম, বিদ্যুৎ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), রপ্তানিকারক, জাহাজ চলাচল, বাণিজ্য, অর্থায়ন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সহ একাধিক খাতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন মোদি। তিনি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো পথে অবরোধ অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত তার জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করছে”।
মোদি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের উদ্বেগ সত্ত্বেও ভারতের ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ এবং ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে ভারত তার চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত। সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “সরকার দেশবাসীর অসুবিধা কমানোর জন্য যা যা করা প্রয়োজন সবটা করছে। দেশের অন্দরে জ্বালানি গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। পেট্রল, ডিজেলের সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে তার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কয়লা, এলপিজি, এলএনজি আমদানিতেও বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। বর্তমানে ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। এই যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের একাধিক জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে এসেছে।”
তিনি বলেন বৈচিত্র্যময় আমদানি নেটওয়ার্কের কারণে ভারত জ্বালানি-সুরক্ষিত রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, দেশটি এখন তার রিজার্ভ ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
তবে, প্রধানমন্ত্রী মোদি স্বীকার করেন যে চলমান সংঘাত ভারতের জন্য বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। "এই যুদ্ধ অর্থনৈতিক, জাতীয় নিরাপত্তা-সম্পর্কিত এবং মানবিক—অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সংঘাতে জড়িত ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। এই অঞ্চলটি আমাদের বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং আমাদের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এর মধ্য দিয়ে আসে বলে তিনি বলেন।
তিনি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলারও নিন্দা করেন।

মোঃ আতাউর রহমান

২ মাস আগে

হিন্দুত্ববাদ # ইয়াহুদীবাদ # খৃষ্টবাদ # নাস্তিক্যবাদ# বুড্ডিস্ট সব সমার্থক সবাই মুসলিম ইসলাম বিরোধী।

মন্তব্য করুন