কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের আনন্দঘন ঈদ উদযাপন

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বন্দীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঈদের আগের দিন থেকেই শুরু হয় উদযাপনের প্রস্তুতি। বন্দীদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। এসব পোশাকের মধ্যে ছিল পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, শাড়ি এবং শিশুদের জন্য বিশেষ পোশাক। মহিলা বন্দীদের জন্য আয়োজন করা হয় মেহেদী উৎসব। এছাড়া তাদের মধ্যে নেইল পালিশ, লিপস্টিক ও মেকআপ বক্সসহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বিশেষ খাবারের আয়োজনও ছিল ব্যাপক। ঈদের আগের দিন রাত থেকেই রান্নার প্রস্তুতি শুরু হয়। গরু ও খাসি জবাই করে সারারাত ধরে রান্নার আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। ঈদের দিন সকালে বন্দীদের জন্য পরিবেশন করা হয় পায়েস ও মুড়ি। দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, খাসির রোস্ট, গরুর মাংস, কোমল পানীয়, মিষ্টি, পান-সুপারি ও সালাদ। রাতের খাবারে ছিল সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজি, আলুর দম, মুরগির মাংস এবং ছোলার ডাল দিয়ে লটপটি।

ঈদের দিন কারাগারে দুই দফায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা ও সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই দুই জামাতে প্রায় আড়াই হাজার বন্দি অংশ নেন। এতে বন্দীদের পাশাপাশি কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন, যা সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে।
এদিন বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের জন্যও ছিল বিশেষ আয়োজন। দর্শনার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। শিশুদের দেওয়া হয় বেলুন, চকলেট, লজেন্স ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

ঈদ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধাও প্রদান করা হয়। তারা মোবাইল ফোনে পাঁচ মিনিট পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। এছাড়া স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বাড়ির রান্না করা খাবার গ্রহণের সুযোগও দেওয়া হয়। বিকেলে বন্দীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে তারা আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন বলেন , প্রায় আড়াই হাজার বন্দি, যার মধ্যে ১০০ জন নারী বন্দি রয়েছে, এবারের ঈদ উদযাপনে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বন্দীরা যাতে পরিবারের বাইরে থেকেও ঈদের আনন্দ অনুভব করতে পারে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। শুধু ভালো খাবার নয়, বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে তাদের মন ভালো রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন