পশ্চিমবঙ্গে মমতার জয় নিশ্চিত হলেও আসন কমতে পারে অনেকটাই

সমীক্ষার পূর্বাভাস

পশ্চিমবঙ্গে মমতার জয় নিশ্চিত হলেও আসন কমতে পারে অনেকটাই

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সব রাজনৈতিক দল ঝাঁপিয়ে পড়েছে রণাঙ্গনে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে দলগুলো। তবে তৃণমূল কংগ্রেস একসঙ্গে সব আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেও অন্য দলগুলো দফায় দফায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে। যে সব জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে সেইসব কেন্দ্রে প্রচার শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে হাইভোল্টেজ কেন্দ্রগুলোতে। এরই পাশাপাশি সেফোলজিস্টরাও বসে নেই। ইতিমধ্যেই সমীক্ষার ফল প্রকাশ শুরু হয়েছে। অবশ্য এই সব সমীক্ষার ফলাফলে অধিকাংশ সময়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে একটা আভাস পাওয়া যায়।
আইএএনএস-ম্যাট্রিজ সংস্থা তাদের প্রথম সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। তাদের সমীক্ষা বলছে, আসন্ন বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫৫ থেকে ১৭০ টি আসন পেতে পারে। ২০২১ সালের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ঝুলিতে ২১৫ টি আসন পেয়েছিল। ফলে এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু আসন কমে যাওয়ার আভাস দিয়েছে এই জনমত সমীক্ষা। যদিও এখনও ভোট আসতে বাকি ১ মাসেরও বেশি সময়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবার ২২৬টির বেশি আসনে জয়ী হবে। মমতার এই আত্মপ্রত্যয় সত্বেও তাকে স্থিতাবস্থা বিরোধীতার সঙ্গে লড়াই করতে হবে। তবে ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, গতবারের থেকেও তিনি বেশি ভোটে জিতবেন। এই কেন্দ্রে তার প্রতিপক্ষ এককালে তারই সাবেক সৈনিক তথা বর্তমানে বিরোধী দলনেতা ও বিজেপির বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।
এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সম্ভাব্য ফল নিয়ে আভাস দেয়া হয়েছে আইএএনএস-ম্যাট্রিজের জনমত সমীক্ষায়। এই সমীক্ষার জানানো হয়েছে, বিজেপি এবারের নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের কাছাকাছি না গেলেও গতবারের তুলনায় ভালো ফল করবে। আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপি জিততে পারে ১০০ থেকে ১১৫টি আসন। এর আগে ২০২১ সালের ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। সেবার বিজেপি সর্বশক্তি নিয়ে প্রচারাভিজানে ঝাঁপিয়ে পড়লেও শেষপর্যন্ত ১০০ও পার করতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সামনে রেখে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ফেরি করতে শুরু করেছে।

আইএএনএস-ম্যাট্রিজের জনমত সমীক্ষার মতে, তৃণমূল্ কংগ্রেস শতাংশের হিসাবে ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পাবে। সেখানে বিজেপির জোট এনডিএ ৪১ থেকে ৪৩ শতাংশ ভোট পেতে পারে। আসন সংখ্যায় অনেকটা ফারাক হলেও শতাংশের হিসাবে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার আভাস দেয়া হয়েছে সমীক্ষায়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বামফ্রন্টের দাপুটে রাজত্বকালের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছিল। এরপর থেকে রাজ্যের ভোটে সেভাবে বেগ পেতে দেখা যায়নি তৃণমূল কংগ্রেসকে। তবে ধীরে ধীরে ২০২১ ভোটের আগে রাজ্যে বিজেপির উত্থান অনেকেরই নজর কেড়েছিল। সেবারের ভোটে বিজেপি বিপুল জয় লাভ না করলেও, বিধানসভায় প্রধান বিরোধী আসনে বসে বিজেপি।
এদিকে, গতবারের নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট কোনও আসন না পেলেও এবার কয়েকটি আসনে জয়ী হতে পারে। অন্য দলগুলো মিলিয়ে ৫ থেকে ৭ টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেস পেতে পারে একটি আসন। শতাংশের হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি বাদে অন্যরা পেতে পারে ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ ভোট।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন