এবার আটক হলেন বিধাননগরের সাবেক চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের গ্রেপ্তারের হিড়িক

এবার আটক হলেন বিধাননগরের সাবেক চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর থেকেই পূর্বতন সরকারের আমলে দুর্নীতি, নানা বেনিয়ম, হুমকি, ভোট-পরবর্তী হিংসা, ত্রাণের সরঞ্জাম হেফাজতে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, যেখানেই হাত দেয়া হচ্ছে সেখানেই পচা দুর্গন্ধ বেরুচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাবেক বিধায়ক থেকে নির্বাচিত পুরসভা ও পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের। গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক মন্ত্রীও। আরও অনেকের দুয়ারে কড়া নাড়ছে পুলিশ।

সোমবারই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী ও বিধাননগর পুরসভার সাবেক চেয়ারম্যান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সব্যসাচী দত্তকে। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সোমবার গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সব্যসাচীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী। তোলাবাজির পাশাপাশি হুমকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সূত্রের খবর, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা চেয়ে চাপ দেয়া হচ্ছিল। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে রাজারহাটের রাইগাছি এলাকায় সব্যসাচীর বাড়িতে হানা দেয় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। রাতেই বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকে। সূত্রের খবর, সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেপ্তার করা হয় সব্যসাচীকে।

সোমবার সকালের পুলিশের জালে ধরা পড়েন দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতার প্রার্থী ও তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান। নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর গোয়েন্দারা। সূত্রের দাবি, নেপাল সীমান্ত হয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। এদিনই তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের নানা ধরণের অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রেপ্তারের খবর জানার পরই সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। অতি উৎসাহীরা ভাঙচুর করে জাহাঙ্গিরের অফিস।

গত মাসে পুরনিয়োগ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসু। পরে সুজিত ঘনিষ্ঠ একাধিক কাউন্সিলরও গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশের হাতে।

জানা গেছে, কখনও দুর্নীতির অভিযোগে, কখনও তোলাবাজি বা হিংসার মামলায় তদন্তকারীদের জালে ধরা পড়েছেন শাসকদলের নেতারা। শাসক দলের মতে, এটি দীর্ঘদিনের অনিয়মের ফল। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নেতাদের নিশানা করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন