শিরোমণি বিসিক যেন বিষাক্ত মৃত্যুর ফাঁদ

ফন্ট সাইজ:

পবিত্র মাহে রমজানেও থামছে না খুলনা বিসিক শিল্প নগরীর হ্যামকো ব্যাটারির সিসা গলানোর কর্মযজ্ঞ। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও এসিড মিশ্রিত উৎকট গন্ধে বিসিক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে রোজাদারদের জন্য এই পরিবেশে নিঃশ্বাস নেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। যা অনেকের রোজা ভঙ্গের উপক্রম ঘটাচ্ছে। শিশু ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেন পুরো এলাকাটি এখন এক ‘মৃত্যুর ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
?সরজমিন দেখা যায়, আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের শিরোমণি বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত হ্যামকো গ্রুপের এই সিসা গলানোর কারখানার চারপাশেই রয়েছে স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ?উত্তরে জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট, গিলাতলা আলিয়া মাদ্রাসা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা, জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং গিলাতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ?দক্ষিণে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয়, ঐতিহ্যবাহী শিরোমণি বাজার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। পূর্বে কেডিএ আবাসিক এলাকা। ?পশ্চিমে আর্মি ইউনিভার্সিটি এবং শিরোমণি গ্রামসহ অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। রমজান মাসের শবেকদরের রাতে মানুষ যখন রাতভর ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত ঠিক তখনই এই প্রতিষ্ঠানের সিসা গলানোর ধোঁয়ায় ইবাদত বন্দেগি ব্যাহত হয়েছে।
?বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রায় সিসা গলানোর সময় বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ মারাত্মক সব রাসায়নিক যৌগ মিশে যায়। এর ফলে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, চোখের সমস্যা এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কোমলমতি শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে ও পড়ার টেবিলে এই ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে। ?এ ব্যাপারে খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. হারুন বলেন, তাদের ছাড়পত্র দেয়া আছে। তবে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হোক এটা কাম্য নয়। নিয়মবহির্ভূত কিছু করলে সেটা অবশ্যই অবৈধ। আমরা বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে দেখবো। ?জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় ফুলতলা ইউএনও, খুলনা ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলার শিরোমণি ও গিলাতলাবাসী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন