যাদুকাটা নদীতে পণতীর্থে গঙ্গাস্নানে লাখো ভক্তের ঢল, পথে পথে ভোগান্তি

যাদুকাটা নদীতে পণতীর্থে গঙ্গাস্নানে লাখো ভক্তের ঢল, পথে পথে ভোগান্তি

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পণতীর্থে গঙ্গাস্নান উৎসবে লাখো ভক্তের ঢল নামে। মঙ্গলবার ভোরে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই স্নানোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। তবে পথে পথে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে এখানে আসা অনেক ভক্তদের। জানা যায়, প্রতি বছর চৈত্র মাসে যাদুকাটা নদীর রাজারগাঁও সংলগ্ন এলাকায় এ গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে আগের দিন থেকেই সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর তীর ও আশপাশের এলাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পুণ্যার্থীদের ভিড় জমে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোর ৫টা ৫৩ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত স্নান অনুষ্ঠিত হয়। সঠিক সময়ে স্নান সম্পন্ন করতে অনেক পুণ্যার্থী আগের রাতেই রাজার গাঁওয়ের শ্রী শ্রী অদ্বৈত জন্মধামসহ আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেন। স্নানোৎসবে আগত ভক্তরা অভিযোগ করে বলেন, সুনামগঞ্জ ব্রিজ থেকে আসা এবং যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও লেগুনায় তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াতের সড়কও অনেক স্থানে অনুপযোগী থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাদের। মধ্যনগর থেকে ভক্তদের নিয়ে আসা নৌকার মালিক জাকারিয়া বলেন, রাত একটার দিকে যাদুকাটা নদীর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নৌকা রাখার কারণে তাদের কাছে নৌকা প্রতি এক হাজার করে দাবি করে কিছু লোকজন। পরে তাদের টাকা না দিলে মাঝিদের মারধর করে নৌকার সেইভ কোলে নিতে জোর করে। একপর্যায়ে প্রতিবাদ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে নিয়ে যায়। অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গঙ্গাস্নান সম্পন্ন হয়েছে। এবার লাখো ভক্তের সমাগম ঘটেছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে যাতায়াত ব্যবস্থার দুর্বলতায় ভক্তদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ ছিল। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন-সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ স্নানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন