মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে ৮০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন বকেয়ার কারণে ঈদের আনন্দ বঞ্চিত হওয়ার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন, যা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পাসির গুদাংয়ে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৮০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক টানা ছয় মাস ধরে বেতন ও ওভারটাইমের টাকা না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাদের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে এবং মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। গত ১৫ ও ১৬ মার্চ মালয়েশিয়ার ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে এবং বাংলাদেশের দৈনিক মানবজমিনে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, জোহরভিত্তিক এস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি নামের কোম্পানিটি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বিলম্ব করে আসছে। বিষয়টি তদন্ত করে শ্রম বিভাগও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানান এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা সরকারের অগ্রাধিকার এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।’
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৬৯ জন কর্মী রয়েছেন, যার মধ্যে ১০৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। ১৯৫৫ সালের এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্টের আওতায় বকেয়া বেতন সংক্রান্ত ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৮টি তদন্ত চলমান রয়েছে।
গত বছর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২৯ জন স্থানীয় কর্মী ১৪টি মামলা দায়ের করেন, যেখানে বকেয়া বেতনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৬ রিঙ্গিত। চলতি বছরে ৮৬ জন অভিবাসী শ্রমিক ও ৬ জন স্থানীয় কর্মী ১৪টি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে মোট দাবি ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪১৪ রিঙ্গিত।
এদিকে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, ১৬ জানুয়ারি এস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি নামক একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ৮৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বেতন না পাওয়ার বিষয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। অভিযোগে চার মাসের বেতন বকেয়া এবং ছয় জন কর্মীর ভিসা বাতিল করার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।
হাইকমিশন আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ইতিমধ্যে লেবার ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং ২৮ জানুয়ারি প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানায় হাইকমিশন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির সিইও, এইচআর ম্যানেজারসহ প্রতিনিধিরা হাইকমিশনে উপস্থিত হয়ে মিনিস্টার (শ্রম)-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের অনুরোধ জানানো হলে কোম্পানি আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধের অঙ্গীকার করে।
গত ৮ ও ৯ মার্চ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম)-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জোহর বারুতে কোম্পানিটি পরিদর্শন করে এবং শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধানের চেষ্টা চালায়। এছাড়া ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় শুনানিতেও হাইকমিশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশন আরও জানিয়েছে, সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য ১৬ মার্চ হাইকমিশন থেকে কোম্পানিকে পুনরায় পত্র দিয়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
