গুজব ছড়িয়ে উত্তরায় অটোচালকদের তাণ্ডব

ফন্ট সাইজ:

গাড়ি পার্কিংয়ের মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর উত্তরার একটি শপিংমলে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা। রোববার মধ্য রাতের ওই তাণ্ডব চালানোর পর এলাকাটির মূল সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতের সংঘর্ষের পর সোমবারও দিনভর আন্দোলনের চেষ্টা করে অটোচালকদের একটি পক্ষ। তাদের আন্দোলনে যোগ না দেয়ায় সড়কে চলাচল করা অন্য চালকদের অটোরিকশার তার ছিঁড়ে দেয় তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রোববার মধ্যরাতে সোনারগাঁও জনপথের উত্তরা স্কয়ার শপিংমলের সামনে যানজট সৃষ্টি করা বেশ কয়েকটি অটোরিকশাচালককে শপিংমলের সামনের সড়ক ছেড়ে দিতে বলে নিরাপত্তাকর্মীরা। এরই মধ্যে সেখানে একটি প্রাইভেটকার এসে থামে। প্রাইভেটকারটি মার্কেটের সামনে যাত্রী নামাতে সমস্যা হওয়ায় অটোরিকশাচালকদের একটু সরে যেতে বলে। শপিংমলের নিরাপত্তাকর্মীরাও তখন রিকশা সরাতে বলে। ওই সময় কয়েকজন অটোরিকশাচালক গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে গাড়িচালক ও যাত্রীরা নামলে অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে উভয়পক্ষেরই হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এসে দুইপক্ষকেই সরিয়ে দেয়। এরপরই চলে যাওয়া অটোরিকশাচালকরা আরও বেশ কিছু রিকশাচালককে সঙ্গে নিয়ে উত্তরা স্কয়ার শপিংমলে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। শপিংমলটির নিচতলায় থাকা বিভিন্ন দোকানে ঢুকে জিনিসপত্র নিয়ে যায়। ওই সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা অটোরিকশাচালকদের তাড়িয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর চলে যাওয়া রিকশাচালকরা আশপাশের এলাকার রিকশাচালকদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে দেয়- ‘তাদের এক চালককে হত্যা করে পুলিশ লাশ গায়েব করে দিয়েছে। আরও অনেক চালককে আটকে রাখা হয়েছে শপিংমলের ভেতরে।’ এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। এরপরই শত শত অটোরিকশাচালক হামলে পড়ে উত্তরা স্কয়ার শপিংমলে। এ সময় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে অটোরিকশা চালকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু কথা না শোনায় পরে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সকলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে আসে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তোপের মুখে শপিংমল ছেড়ে দিলেও সামনের মূল সড়কে অবস্থান নেয় অটোচালকরা। সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। লাশ গুম করার সন্দেহে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে তারা। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে অটোরিকশাচালকদের বেশ কয়েকজনকে শপিংমলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে দেখায়- সেখানে কাউকেই আটকে রাখা হয়নি। কেউ মারাও যায়নি। রাতভর এত কাণ্ডের পর সকালেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের জড়ো হয়ে আন্দোলনের চেষ্টা করে অটোচালকদের একটি পক্ষ। তবে তাদের সঙ্গে যোগ না দেয়ায় ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী বেশ কিছু অটোরিকশার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে অচল করে দেয়া হয়।

এদিকে সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্‌) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, উত্তরা স্কয়ার শপিংমলে রিকশাচালককে মারধর করে আটকে রাখা ও হত্যার খবরটি ছিল ভিত্তিহীন, গুজব। এই গুজবকে কাজে লাগিয়ে একদল দুর্বৃত্ত মব সৃষ্টি করে লুটপাটের চেষ্টা চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ। দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

বিষয়টি নিয়ে উত্তরা স্কয়ার শপিংমলের স্বত্বাধিকারী মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ঘটনার সূত্রপাত হয় একজন রিকশাচালক ও মার্কেটের নিরাপত্তা প্রহরীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি থেকে। তিনি বলেন, এই ভাঙচুর ও লুটপাটে শপিংমলের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে মামলা করবো। তিনি অভিযোগ করেন, সামান্য ধস্তাধস্তির পর একটি পক্ষ লোক জড়ো করে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তারা ভবনটি ভাঙচুর করে এবং বেশ কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালায়। পুলিশ এসে ৪-৫ জনকে আটক করার পরপরই গুজব ছড়ানো হয় যে, মার্কেটের ভেতরে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিয়ে আমরা পুরো মার্কেটে তল্লাশি চালিয়েছি, কিন্তু হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, হামলাকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় শুরুতে পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Hori

২ মাস আগে

লে ঠেলা! অটো সামলাইতেও এখন আর্মি লাগে!

S m hasen ali

২ মাস আগে

নিশ্চয়ই। সংবিধান কি বলে তা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Hedayet Ullah

২ মাস আগে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব নিশ্চয়ই সাংবিধানিকভাবে বিষয়টিকে অতী দ্রুত সমাধান করবেন। আরও ভাল হতো যদি সাংবিধানিক ভাবে এসব ঘটনাকে ঘটতে প্রতিহত করা যেত।

মন্তব্য করুন