অপহরণের পর ইয়াবা দিয়ে ২ ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা, ৯৯৯-এ কল দিয়ে উদ্ধার

অপহরণের পর ইয়াবা দিয়ে ২ ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা, ৯৯৯-এ কল দিয়ে উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

এম্বুলেন্সে জোরপূর্বক অপহরণের পর ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগ করে ২ ভাইকে উদ্ধার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। তাদেরকে এম্বুলেন্সের মধ্যে রেখে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে কুপিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়সহ ভিডিও করে পরিকল্পিতভাবে ইয়াবা বড়ি দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একই এলাকার প্রতিপক্ষের নামে মামলা করা হলেও পুলিশ এখনো আসামিদের ধরতে পারেনি। সোমবার জেলা শহর মাইজদীর ইউরো শপিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী সহোদর হলেন- উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর ফরেস্টার সাহেবের বাড়ির কৃষক শোয়েব হোসেনের ছেলে মো. ইমদাদুল হক ইমন (২২) ও মো. এহসানুল হক দিহান (২০)। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, পূর্ব-শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এম্বুলেন্সযোগে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে সুধারাম মডেল থানাধীন পূর্ব বদরীপুর ডিএসপি জামে মসজিদের সামনে থেকে ইমদাদুল ও এহসানুলকে অপহরণ করা হয়। পরে নির্যাতন করে তাদের কাছে ইয়াবা বড়ি রেখে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখিয়ে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ সোনাপুর কাঠপট্টি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। পরে অপহরণের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে মাদক ব্যবসার কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে পরিবারের কাছে দুই ভাইকে হস্তান্তর করে পুলিশ।
তাদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন আধিপত্য বিস্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাদের হয়রানি করে আসছিল। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত আনোয়ারুল ইসলাম হেলাল (৩৫), মো. আবদল্লাহ প্রকাশ রোমান, মো. সুনাম (৩৫), মো. শাওন ড্রাইভার (৩০), মো. সাদ্দাম হোসেন (১৮) ও মো. মেহেদীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৬ জনের নাম উল্লেখ করে ভুক্তভোগীদের বাবা শোয়েব হোসেন বাদী হয়ে গত ৩রা মার্চ সুধারাম মডেল থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার ১৩ দিন পার হলেও আসামিদের ধরতে গড়িমসি করছে পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মহি উদ্দিন জানান, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা পর্যালোচনা করে অপহরণের মামলা নেয়া হয়েছে এবং জড়িত আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন