দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশÑসব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সোমবার দুপুরে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার তালুকনগরের তালুক হাপানিয়া-উলাইল খাল খনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, জেলা প্রশাসক নাজমুন নাহার সুলতানা, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সারওয়ার আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন, মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সত্যেনকান্ত পণ্ডিত ভজন, গোলাম আবেদীন কায়সার, জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিমানমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের এই মানিকগঞ্জে ১৯ বার এনেছিলেন। তিনি শিবালয় উপজেলার কাশাদহ খাল খনন কাজের উদ্বোধনও করেছিলেন। যে কারণে আমরা মানিকগঞ্জবাসী গর্ববোধ করি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত কাশাদহ খাল খনন উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনার চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন, একসময় দেশের গ্রামাঞ্চলে অসংখ্য খাল-বিল ছিল, যা কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে বা নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে কৃষিজমিতে সেচের সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার মতো দুর্ভোগ বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার পরিকল্পিতভাবে খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উদ্বোধন শেষে বিমানমন্ত্রী খাল খনন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খালটি পুনরুদ্ধার হলে এলাকার কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশেরও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। পরে মন্ত্রী পাটুরিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শন করেন। এসময় মন্ত্রী ফেরিঘাট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঘরমুখো যাত্রীসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারে সেসব ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন।
