বান্দরবানে সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরিয়ে কার্পেটিং কাজ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

বান্দরবানে সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরিয়ে কার্পেটিং কাজ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

বান্দরবান রেইছা-গোয়ালিয়াখোলা সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সড়ক কার্পেটিং কাজ। এতে করে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তড়িগড়ি করে কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেও জানে না বৈদ্যুতিক খুঁটি কোথায়।
সরজমিন জানা যায়, বান্দরবানে রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে জোরেশোরে। কিন্তু সেই উন্নয়নই যেন হয়ে উঠেছে নতুন বিপদের কারণ। সড়কের ঠিক মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি, আর সেই খুঁটি না সরিয়েই চলছে রাস্তার কার্পেটিং কাজ। এলজিইডি অর্থায়নে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে বান্দরবান সদর ইউনিয়নের রেইছা থেকে গোয়ালিয়া খোলা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ। কিন্তু সেই উন্নয়নই যেন হয়ে উঠেছে নতুন বিপদের কারণ। সড়কে মাঝপথে বিদ্যুতের খুঁটি না সরিয়ে চলছে রাস্তার কার্পেটিং কাজ। নিয়ম অনুযায়ী আগে খুঁটি সরিয়ে সড়ক নির্মাণ করার কথা থাকলেও তা না করে দায়সারা ভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ফলে সড়কটি ব্যবহার করতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে চালক ও পথচারীদের। শুধু তাই নয়, কাজের মান নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে নতুন নির্মিত সড়ক অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা।
গোয়ালিয়াখোলা এলাকার বাসিন্দা টমটম চালক সুজন মার্মা বলেন, সড়কের উপরে বিদ্যুতের খুঁটি এটা আমাদের জন্য অনেক বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন-রাতে আমরা এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালিয়ে থাকি। সড়কের উপরে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। বান্দরবান সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অংসাহ্লা মার্মা বলেন, আমরা অনেক বার বলেছি বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে কাজ করার জন্য। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনেনি। এ ছাড়াও শুরু থেকে সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদাররা। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসাইন বলেন, গত দুই-একদিন আগে এলজিইডি থেকে আমাদেরকে জানানো হয়েছিল এ বিষয়ে। কিন্তু ঈদের কারণে অনেকে ছুটিতে গেছে, পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটি উত্তোলনের জন্য ক্রেন প্রয়োজন, সেটিও আনতে হয় চট্টগ্রাম থেকে। তাই ঈদের পর যত দ্রুত সম্ভব রাস্তার উপর থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নেয়া হবে।
রাস্তার উপর খুঁটি রেখে কার্পেটিং করার বিষয়ে কিছুই জানেন না এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী। তবে গুণগতমান ঠিক রেখে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান। তিনি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের শেষ নেই, তবে কাজের মান খুবই ভালো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বান্দরবান এলজিইডি’র অর্থায়নে তিন প্যাকেজে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউটিমং-মিল্টন ট্রেডার্স (জেভি) ও এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। চলতি বছরের জুন মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথাও রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন