ঈদের আগে দেশে ফেরার আশা, ফিরতে পারেনি একজন রোহিঙ্গাও

ঈদের আগে দেশে ফেরার আশা, ফিরতে পারেনি একজন রোহিঙ্গাও

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে এবারের ঈদ নিজ দেশ মিয়ানমারে উদ্‌যাপনের আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। গত বছর ক্যাম্প পরিদর্শনে এসে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাতে অনেক রোহিঙ্গাই ভেবেছিলেন ২০২৬ সালের ঈদ তারা রাখাইনে ফিরে পরিবারের সঙ্গে করতে পারবেন। তবে ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখনো পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও নিজ দেশে ফিরতে পারেননি। এতে করে ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু সেই অপেক্ষা যেন দিন দিন অনিশ্চয়তায় ডুবে যাচ্ছে। গত বছর ২০২৫ সালের ১৪ই মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সে সময় ড. ইউনূস বলেন, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারবেন। ওই বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এবারের ঈদের আগে এখনো পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। ফলে কবে তারা নিজ দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে আবারো অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা হাফেজ আহমেদ বলেন, অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম হয়তো এবারের ঈদের আগেই দেশে ফিরতে পারবো। কিন্তু এখনো সেই সুযোগ হয়নি। আমরা সবাই নিজ দেশে ফিরতে চাই। বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী রাশেদা বেগম বলেন, ক্যাম্পের ঝুপড়ি ঘরে আর থাকতে চাই না। গত ৯ বছর ধরে আমরা আশ্রয়শিবিরে আছি। রাখাইনে আমাদের ঘরবাড়ি ছিল। কিন্তু জান্তা সরকারের নির্যাতনের কারণে পালিয়ে আসতে হয়েছিল। আমরা নিরাপদভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। এ বিষয়ে উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হুসাইন বলেন, রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে করে তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটির নেতা এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বড় একটি মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ক্যাম্প সফরে এসে প্রত্যাবাসন নিয়ে যে আশার কথা বলেছিলেন তাতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বাস্তব কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তাই দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন