ঈদ এলেই মানুষ খোঁজে নতুন টাকার কড়কড়া নোট। এসব নোটে সালামি কিংবা বকশিশ দেয়া হলে ঈদের আনন্দে যোগ হয় বাড়তি মাত্রা। ব্যাংকগুলোতে মিলছে না নতুন টাকা। ব্যাংকে টাকা না পেয়ে সবাই ছুটছেন ফুটপাথের টাকার দোকানে। চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট এলাকার নতুন টাকার দোকানে বেড়েছে ভিড়। তবে সরবরাহের অজুহাতে নতুন নোটের দাম বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা। মাথার ওপর একটি ছাতা আর সামনে টাকার বক্স নিয়ে ফুটপাথে বসে পড়েন ব্যবসায়ীরা। পুরনো ও ছেঁড়া টাকার নোট বিনিময়ের এ দোকানগুলো ঈদের আগে পরিণত হয় নতুন টাকা কেনাবেচার বাজারে। এ বাজারগুলোকে ‘নতুন টাকার হাট’ বলে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই টাকার প্রতি বান্ডিলের (১০০টি নোট) দাম ২৫০ পর্যন্তও হাঁকা হচ্ছে। পাঁচ টাকার বান্ডিলের দাম ৫০০ টাকার বদলে হাঁকা হচ্ছে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও আরও বেশি। ১০ টাকার বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০-৪৫০ টাকা পর্যন্ত। আর ২০ টাকার বান্ডিল ২ হাজার ৩৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার বান্ডিলে বাড়তি খরচ পড়ছে ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া ১০০ ও ২০০ টাকার নোট প্রতি হাজারে হাজারে ১০০ টাকা থেকে বান্ডিলে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রাখা হচ্ছে।
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান দুলাল নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রতি বছর এতিমদের জন্য নতুন টাকা নেয়া হয়। এবার আমার বন্ধুও বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছেন এতিম শিশুদের জন্য। বাড়তি ভর্তুকি দিয়ে দুইটা বান্ডিল নিয়েছি। শফিকুল রহমান নামে আরেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকে গেলে নতুন টাকা পাওয়া যায় না অথচ ফুটপাথে নতুন টাকার নোটের রমরমা ব্যবসা চলছে। ব্যাংক থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা বের করে একটি গ্রুপ ব্যবসা করছে। টাকার বিনিময়ে টাকা কিনতে হচ্ছে। প্রতি হাজারে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি চাচ্ছে।
নতুন নোট নিতে আসা মনোনয়ন বেগম বলেন, আমরা সারা বছর ব্যাংকে আমানত রাখি অথচ ঈদ আসলে আমরা সেই আমানত ব্যাংক থেকে পাই না। সিন্ডিকেট করে বাইরে ব্যবসা করছে। আমাদেরও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে রাস্তা থেকে টাকা কিনতে হচ্ছে। আবদুল আওয়াল নামে এক নতুন নোটের ব্যবসায়ী জানান, এখানে যে নতুন নোট পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো চট্টগ্রামের বাইরে থেকে আনা। হাত বদলে এগুলো অনেক বাড়তি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। আবদুল জব্বার নামে আরেক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী বলেন, সেই ৫০ বছর আগে থেকেই ব্যবসা করছি তখন ছিল হাজারে ২ টাকা। এখন টাকার মান কমে গেছে। ১ হাজারে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত বছর একসঙ্গে ৯ ধরনের নোট ছাপানো হয়েছে। সমপরিমাণ নোট ছাপাতে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহকারী কোম্পানির সীমাবদ্ধতার কারণে চাপ তৈরি হয়েছে। এখন থেকে ঈদকে কেন্দ্র করে নয়, বছর জুড়ে নতুন টাকা সরবরাহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, একটি নোট ডিজাইন থেকে বাজারে ছাড়তে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। একসঙ্গে ৯ ধরনের নোট ছাড়ার উদ্যোগ নেয়ায় বড় চাপ তৈরি হয়েছিল। তাই গত বছর থেকেই এ রীতি বদলানো হয়েছে।
