রাফেলের করা গুলির খোঁসা ১২ দিন পড়ে রইলো মেঝেতে, জানে না পুলিশ

রাফেলের করা গুলির খোঁসা ১২ দিন পড়ে রইলো মেঝেতে, জানে না পুলিশ

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে গুলি করা শহীদ সাগর হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা মাহবুব আলম রাফেল (৩৮) সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়েই চলছে। পুলিশের খাতায় পলাতক হলেও এলাকায় জমি দখল করতে গিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে। তার হাতে করা গুলির খোসা ১১ দিন যাবত পড়ে আছে ঘরের মেঝেতে। তবে ওসি বলছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভায় এ তথ্য উঠে আসে। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় মাহবুব আলম রাফেল মোস্টওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।
রাফেল মহানগরীর আকুয়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। মাহবুব আলম রাফেল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ সাগর হত্যা, সন্ত্রাস দমন আইনের মামলাসহ হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ অন্তত ২০ মামলার আসামি। সরজমিন জানা গেছে, গত ৪ঠা মার্চ বিকালে রাফেল নগরীর আকুয়া দক্ষিণপাড়া খালপাড় এলাকায় মো. সেকান্দার আলী নামে এক বৃদ্ধের জমি দখল করতে যায়। এসময় বৃদ্ধের ছেলে মো. সামিরের কক্ষে বাইরে থেকে গুলি করে। গুলিটি রঙিন টিন ভেদ করে কক্ষের ভিতরে ওয়ারড্রোব সাইডে লেগে কাঠ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। বৃদ্ধকে মারধর ও তুলে আনার চেষ্টা করে। জমি ছাড়ার জন্য ৭ দিনের সময় দিয়ে আসে। পরে ১১ই মার্চ আবার ওই বৃদ্ধের জমি দখল করে। ওই জায়গায় গেলে হত্যার হুমকি দেয়। এ কারণে ভয়ে বৃদ্ধ সেকান্দার আলীর পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার আসামিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল, মারামারি, লুটতরাজের ঘটনায় রাফেলের বিরুদ্ধে রয়েছে কমপক্ষে ডজনখানেক মামলা।
সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী মাহবুব আলম রাফেলের ভাই আপেলকে গত বছরের ৫ই নভেম্বর রাতে অবৈধ অস্ত্র, মাদকসহ আকুয়া খালপাড় তার আস্তানা থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে আসে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এদিকে, সন্ত্রাসী রাফেল বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলতে নারাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এখন এলাকার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে। এতে আতঙ্কের আছে সাধারণ জনগণ, আমরা নিজেরাও আতঙ্কের মাঝে রয়েছি। এরপর মোতালেব, কাজল মিয়া, কবীর মিয়া মুক্তিযোদ্ধা অফিসের তালা ভেঙে নিজেদের অফিস হিসাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু দেড় বছর যাবত রাফেল বাহিনীর দখলে থানায় করা সম্ভব হচ্ছে না। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, গুলি করার বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেই রাফেলের বিষয়টি জানতে পারছি। খোঁজ নিয়ে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন