চৌদ্দগ্রামে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, আহত ৯

চৌদ্দগ্রামে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, আহত ৯

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িসহ সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নারী ও পুরুষসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ মাস্টার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন।

জানা গেছে, সিংরাইশ গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. সবুজের সঙ্গে একই এলাকার আমির ইসলামের ভাতিজা রেজাউল করিমের পূর্ব বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রেজাউলকে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া মারধর করে। এর জেরে শুক্রবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষ চেষ্টা চালালে বাচ্চু দলবল নিয়ে ওই এলাকায় দফায় দফায় হামলা চালিয়ে সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনা ঘটে। এসময় ওই এলাকার হাবিব উল্লাহর ছেলে রেজাউল হক, হাফিজুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন, আহসান মিয়ার ছেলে মো. রেহান, রেজাউল হকের ছেলে মো. রিফাত, একই এলাকার সৌদি প্রবাসী আরিফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ফাতেমা আক্তার, সাত্তার মিয়ার ছেলে সবুজ (২৫), নুর হোসেনের ছেলে শাহাদাতসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া দল ক্ষমতায় থাকাকালীন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তার অত্যাচারে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারেনি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাচ্চু মিয়া হঠাৎ করে ভোল পাল্টিয়ে জামায়াতকে সমর্থন করে দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে শুরু করে। শুক্রবার রাতে তার নেতৃত্বে ওই গ্রামে দফায় দফায় হামলা চলে এবং বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশ কর্মকর্তা পেয়ার আহাম্মদ, বড় বাড়ির হারুনুর রশিদ, মোছলেম মিয়ার বাড়িঘর। এসময় নারী-পুরুষসহ এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। রাত ৮টায় সংঘর্ষ শুরু হলেও দফায় দফায় সংর্ঘষটি রাত ১২টা অতিক্রম করে। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, শুক্রবার রাতের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। তাছাড়া আমি কখনো যুবলীগ করিনি। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন