হৃদয়ের ডাবলে মুগ্ধ সিমন্স

হৃদয়ের ডাবলে মুগ্ধ সিমন্স

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে দিনের শুরুতে স্বাগতিক দলের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে। মুশফিকুর রহীম এবং লিটন দাস আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। দলের রান তখন ছয় উইকেটে ১২৪। এমন অবস্থায় তাওহীদ হৃদয় ব্যাটিং করতে নামেন। তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত ২৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার এই স্কোরে ভর করে দল প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান করে। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন হৃদয়। শেষ দিকের ব্যাটারদের নিয়ে রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লেখেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি এখন হৃদয়ের এই ২৪২ রান। ২০১৮, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মুশফিক। প্রায় ৮ বছর পর তাকে টপকে গেলেন হৃদয়।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডটি আগে থেকেই হৃদয়ের। গত আগস্ট- সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলেছিলেন ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার এই অসাধারণ ব্যাটিং নিয়ে জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেন, ‘এটা অসাধারণ একটি ইনিংস ছিল। শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ইনিংস। এমনকি ফিল্ডাররা বাউন্ডারিতে থাকলেও সে বাউন্ডারি খুঁজে বের করতে পেরেছে, ছক্কাও মেরেছে। ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি যাওয়ার সময় তাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। তবুও সে নিজের কাজটা করে গেছে। সব দিক থেকেই এটা ছিল অসাধারণ প্রচেষ্টা। খেলা বোঝা, কোন শট খেলতে হবে তা জানা, কখন শেষ তিন ব্যাটারকে স্ট্রাইক দিতে হবে; সবকিছুই সে দারুণভাবে করেছে।’

ঢাকা টেস্টে দুই ইনিংসেই বাজে শট খেলে আউট হয়েছিলেন হৃদয়। তার দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তবে সিমন্স এই বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সে পুরো সময়ই ভালো ব্যাটিং করে আসছে। হ্যাঁ, ঢাকায় সে কয়েকটি বাজে শট খেলেছিল। কিন্তু সেটা নিয়ে তাকে বিচার করা ঠিক হবে না। ওটা ছিল তার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের মতো কিছু একটা। আমার মনে হয়, সে দ্রুত পরিণত হচ্ছে এবং আজ আমরা সেটার প্রমাণ দেখেছি।’ তবে হৃদয়ের সঙ্গে আলাদা করে কোনো কথা হয়নি বলে জানান কোচ। তিনি দলের সব ব্যাটারের সঙ্গে সাধারণ আলোচনা করেন। মাঠে নেমে কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের নিতে হয়।

এই বিষয়ে সিমন্স বলেন, ‘তারা যখন মাঠে যায়, তখন তারাই দায়িত্বে থাকে। আমরা তাদের মাথায় এই বিষয়টিই ঢোকানোর চেষ্টা করি। হৃদয় যা করেছে, সবই তার নিজের চিন্তা থেকে করেছে।’ গতকাল তৃতীয় দিনের শেষে বাংলাদেশ দল নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় সিলেট টেস্টের। শুরুতে ধাক্কা খেলেও মিডল অর্ডার ব্যাটার হৃদয় দলের হাল ধরেন। তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। দলের প্রয়োজনে তিনি ত্রাণকর্তার ভূমিকা পালন করেন। ম্যাচের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি এই রান করেন। খেলোয়াড়দের দায়িত্ববোধ ও দলের প্রতি তাদের অবদান রাখার বিষয়ে কোচ সিমন্স বলেন, ‘আমরা ছেলেদের সব সময় বলি, সুযোগ এলে সেটা লুফে নিতে হবে এবং ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। তুমি যখন মাঠে থাকবে, তখন দায়িত্ব তোমার। দলের জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই করে যেতে হবে। হৃদয়ের কাছে আমাদের যা প্রত্যাশা ছিল, আজ সে সবকিছুই করে দেখিয়েছে।’

তৃতীয় দিনেও সিলেট টেস্টের উইকেট খুব বেশি খারাপ হয়নি। এ কারণে চতুর্থ দিনের উইকেট ও বাংলাদেশের সম্ভাব্য লক্ষ্য নিয়েও এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি সিমন্স। তার পর্যবেক্ষণ, তৃতীয় দিনের শেষেও উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল। সকালে রোলার ব্যবহারের পর উইকেটের অবস্থা দেখে পরিকল্পনা ঠিক করতে চান তিনি। সিমন্স বলেন, ‘লক্ষ্য নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। উইকেট এখনো ভালো মনে হচ্ছে। আজ সন্ধ্যাতেও উইকেট ভালোই দেখাচ্ছিল। সকালে এসে রোলার ব্যবহারের পর পরিস্থিতি কেমন থাকে, তা দেখলে আগামীকাল কী করতে হবে, সে বিষয়ে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে।’