জরুরি অবস্থা নিয়ে গান্ধী পরিবারে বিরোধ তৈরি হয়েছিল : সোনিয়া গান্ধী

জরুরি অবস্থা নিয়ে গান্ধী পরিবারে বিরোধ তৈরি হয়েছিল : সোনিয়া গান্ধী

ফন্ট সাইজ:

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থা কংগ্রেসের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত একটি অধ্যায় হয়ে আছে। সেই উত্তাল সময়ের কথা স্মরণ করে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এই সিদ্ধান্তকে একটি "ভুল" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সঞ্জয় গান্ধীকে "নিয়ন্ত্রণে" রাখলে জরুরি অবস্থা জারির পরবর্তী অনেক ক্ষতি এড়ানো যেত। তাঁর স্মৃতিকথা 'বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ' প্রকাশের আগে 'দ্য গার্ডিয়ান'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোনিয়া বলেছেন, এমনকি তাঁর শাশুড়ি ইন্দিরাও জরুরি অবস্থা জারি করতে কখনও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি।
অবশ্য সোনিয়া গান্ধী জরুরি অবস্থা নিয়ে এর আগেও কথা বলেছেন। জরুরি অবস্থার সময়ে নাগরিক স্বাধীনতা স্থগিত করা হয়েছিল এবং বিরোধী নেতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নৃশংস দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের ভেতরের বিভাজনের আরও বিস্তারিত একটি চিত্র তুলে ধরেছে। সাক্ষাৎকারে, তার নতুন বই থেকে কিছু অংশ তুলে ধরে সাবেক কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইন্দিরা ছিলেন 'হৃদয়ে একজন গণতন্ত্রবাদী'।
আমি জানি এতে অনেকেই হাসবেন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি জরুরি অবস্থার সময় তিনি কখনোই স্বস্তিতে ছিলেন না। "আমার মনে হয়, ব্যাপারটা তার ওপর খুব চাপ সৃষ্টি করছিল," তিনি আরও বলেন,
প্রায় দুই বছর (১৯৭৫-১৯৭৭) স্থায়ী এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ এবং এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে রায়বেরেলি থেকে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল ঘোষণার প্রেক্ষাপটে।
সোনিয়ার মতে, জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত পরিবারে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল।
তিনি বলেছেন, তার স্বামী রাজীব গান্ধী যখন তার মাকে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তখন সঞ্জয় এর জন্য চাপ দিয়েছিলেন। সঞ্জয়ের কোনো মন্ত্রিসভা বা সরকারি পদ না থাকলেও, ইন্দিরা গান্ধীর ওপর তার অসাধারণ প্রভাব ছিল। বস্তুত, তখন তাকে দেশের দ্বিতীয় সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো। সোনিয়া বলেন, এটি পরিবারের মধ্যেও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।
সোনিয়া বলেছেন, জরুরি অবস্থা জারির চূড়ান্ত চাপটি এসেছিল একটি পারিবারিক নৈশভোজের সময় সঞ্জয়ের কাছ থেকে। সোনিয়ার ভাষ্যমতে, বিরোধীদের উল্লেখ করে সঞ্জয় ইন্দিরাকে বলেছিলেন, "তাদের থামাতে হবে।" তিনি বলেন, রাজীব তার মায়ের মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি শুনতে রাজি হননি। সঞ্জয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখলে যে ক্ষতি হয়েছিল তার অনেকটাই এড়ানো যেত। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোনিয়া তাঁর বইতে উল্লেখ করেছেন, "এরপর..."
ইন্দিরার ছোট ছেলে সঞ্জয় জরুরি অবস্থার সময় পর্দার আড়াল থেকে ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের আড়ালে জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ, যা জনপ্রিয়ভাবে 'নাসবন্দি' নামে পরিচিত, তার মতো বাড়াবাড়ির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পুরানো দিল্লি জুড়ে তার বস্তি উচ্ছেদ অভিযানগুলো সেই সময়ের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।