বয়স সবে ৫ ঘণ্টা, এরই মধ্যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার

বয়স সবে ৫ ঘণ্টা, এরই মধ্যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার

ফন্ট সাইজ:

বয়স সবে ৫ ঘণ্টা। এরই মধ্যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয় এক নবজাতক। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিসিউতে ঝলসে যায় শরীর। তার আগে ভর্তি ছিলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এনআইসিইউ সংকটে সেখানে থেকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে। অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে যাওয়ার পর বার্ণ ইনস্টিটিটে। সেখান থেকে ঢামেক হয়ে ফের দুর্ঘটনা ঘটা সেই বেসকারি মেডিকেলেই স্থান হয় নবজাতকটির।

রাজধানীর চাঁনখারপুলের ‘রয়েল কেয়ার হাসপাতাল’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে ৫ ঘণ্টা বয়সী এক নবজাতকের শরীর পুড়ে গেছে। মাথা, পিঠ ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা ঝলসে যাওয়া ওই শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার ভোরে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুর বাবা মো. রাব্বানী জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে সন্তানে জন্ম হয়। জন্মের পর নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত লাইফ সাপোর্টে নেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ঢামেকের নিজস্ব এনআইসিইউতে কোনো সিট খালি না থাকায় সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে ভোরের দিকে শিশুটিকে চাঁনখারপুলের ‘রয়েল কেয়ার হাসপাতালে’ নিয়ে যান রাব্বানী।

হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগেই নবজাতকটিকে এনআইসিইউ শয্যায় রাখা হয়েছিল। বাবা মো. রাব্বানী ও তার ভাতিজা রেজাউল যখন কাগজপত্র ঠিক করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ সবার চিৎকার শুনতে পান। দৌড়ে ওয়ার্ডে গিয়ে তারা দেখতে পান, শিশুটিকে যে মেশিনের মধ্যে রাখা হয়েছিল সেটি দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং বাচ্চার শরীরে আগুন লেগে গেছে। এই ভয়াবহ অবস্থা দেখে হাসপাতালের দায়িত্বরত স্টাফরা আগেই পালিয়ে যান এবং সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহত শিশুকে পরে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু ঢামেকের চিকিৎসকরা শিশুটিকে আবার ‘রয়েল কেয়ার’ হাসপাতালেই ফেরত পাঠান। পরবর্তীতে দায় এড়াতে সেখানে গেলে রয়েল কেয়ার হাসপাতালের লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর করে বলেও অভিযোগ করেন শিশুর বাবা।
মো. রাব্বানী বলেন, সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। কিন্তু ওদের অবহেলায় আমার ৫ ঘণ্টার বাচ্চার শরীরটা পুইড়া গেল। আমি এই কসাইদের বিচার চাই।
রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, শিশুটিকে ভর্তি করার আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা এবং শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে তাদের ধারণা। তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, মারধরের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়, বরং সেখানে থাকা অন্যান্য রোগীদের স্বজনদের সঙ্গেই মূলত বাকবিতণ্ডা বা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাজকিয়া হক জানান, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি বারবার স্বজনদের জানানো হলেও তারা মানতে চাচ্ছেন না এবং চিকিৎসায় সহযোগিতা করছেন না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো.হাবিবুর রহমান জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।