দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের মতো এর দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার বিকালে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। বিকাল ৩টায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে উঠেন প্রধানমন্ত্রী। এসময়ে মঞ্চে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।
এরআগে বেলা ১২টা থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। কাকরাইল মোড় থেকে শুরু করে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ঢল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতা-কর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সম্বলিত প্ল্যাকার্ড শোভা পায়। নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে র্যালিকে বর্ণাঢ্য রুপ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো এখনও তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দাবিয়ে রাখতে চায়। আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব র্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র্যালী হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন। একই সঙ্গে যে গণতন্ত্রকে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ জীবন বিসর্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই গণতন্ত্রকে রক্ষার দিন হোক আজকের এই ৭ই নভেম্বর।
নয়াপল্টনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের কাছে সমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা কী আমাদের সঙ্গে আছেন? এই সময়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।
প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকারী মানুষকে নিয়ে আমরা যে কোন ষড়যন্ত্র দেশের ভেতরেই হোক, দেশের বাইরেই হোক, সকল ষড়যন্ত্রের জবাব আমরা এক এক করে দেব। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক করে মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
তিনি বলেন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতার দিন।
নিজে স্লোগান ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আবারও আমি বলতে চাই- ‘দিল্লী নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধুমাত্র স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ছিনিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষেরা সেই স্বৈরাচার, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট, একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে দেশের মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র্যালিতে যোগ দেন। তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতারা অংশ নেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
৫৯ মিনিট আগে
৭ নভেম্বর (শনিবার), ২০২৬, ৭ঃ০৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
