চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস) কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে কার্যালয়ের একটি অংশে হঠাৎ করে আগুন লাগে। খবর পেয়ে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম কন্ট্রোল রুম। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জানা যায়, ঘটনার দিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত দপ্তরে মেরামত কাজ করছিলেন ঠিকাদারের লোকজন। ভবনের ছাদ আংশিক খোলা ছিল। যে কক্ষে ফাইলপত্র রাখা হয়েছে, তার ওপর টিনের ছাউনি দেয়া। বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেয়ার সুযোগ প্রায় নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি সূত্র জানায়, বন্ধ অফিসে সিগারেট খাওয়ার প্রশ্নও ওঠে না। আবার শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগলে তা রাত ১১টার দিকে কেন ঘটলো- এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দপ্তরের ফাইলপত্র রাখা হয়েছে ঠিক সেই কক্ষেই আগুন লাগার ঘটনায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কোনোভাবে প্রমাণ লোপাটের ঘটনা কি না। একটি ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার স্টিম বুশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে জরুরি দাপ্তরিক ফাইল থাকা কক্ষে স্প্রে করার পর আগুন নেভার পরিবর্তে আরও বেড়ে যায়। ঘটনার পর সেখানে ছুটে আসেন সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রাশেদ ইবনে আকবরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারা। আগুন নেভাতে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল- এ প্রশ্নে রাশেদ ইবনে আকবর বলেন, স্টিম বুশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, আগুন নেভানোর জন্য রাখা ফায়ার স্টিম বুশারগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ।
বিষয়টি দেখে তিনি এবং অন্য কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে যান। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সবুক্তগীন বলেন, যেখানে আগুন লেগেছে, সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। সংস্কার কাজের জন্য সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ও জরুরি কাগজপত্র ও নথিপত্র আগেই সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। সেখানে সংস্কার কাজ চলছিল। তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ জানতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, পাহাড়তলীতে অবস্থিত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের এই কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
