পরিবেশ আইন অমান্য করে ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের ভুরাখালীতে দেদারছে কৃষি জমির মাটি কাটছে মাটিখেকোরা। জমির উপরিভাগের মাটি কেটে সরবরাহ করা হচ্ছে ইটভাটায়। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামে পুরাতন পুকুর সংস্কার কাজ শুরু করলেও ইতিমধ্যে শর্ত ভঙ্গ করেছে তারা। কৃষিবিদদের মতে, জমির উপরিভাগের চার থেকে ছয় ইঞ্চি গভীরের মাটিতেই মূল পুষ্টিগুণ থাকে। মাটির এই স্তর কেটে নেয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবে না কৃষকরা।
সরজমিন নয়নশ্রী ইউনিয়নের ভুরাখালীতে গিয়ে দেখা যায়, ভুরাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামান্য দূরেই দুইটি স্থানে কৃষি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। চারদিকে সবুজের মাঝে ভেকু বসিয়ে মাটি কাটার ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমি। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কৃষিজমি থেকে খননযন্ত্রের সাহায্যে মাটি উত্তোলন চলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, লিটন নামে এক মাটিখেকো কৃষি জমির মাটি কাটছেন। মাটিখেকোরা কারও কথা চিন্তা করে না। দেখেন যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে তাতে পার্শ্ববর্তী জমিগুলো ভেঙে পড়বে। বারবার নিষেধ করার পরও কর্ণপাত করছে না। জমিগুলো এমনভাবে কাটে যেন পাশের জমির মালিককে বাধ্য হয়ে জমিও বিক্রি করে দিতে হয়। তারা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে হাত না করে কেউ মাটি কাটতে পারে? প্রশাসন চাইলে কারও পক্ষেই মাটি কাটা সম্ভব নয়। এ সময় তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। স্থানীয়রা আরও জানান, এসব মাটিগুলো সাধারণত ইটভাটায় সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বসতবাড়িতে বিক্রি করা হচ্ছে কৃষি জমির মাটি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষক বলেন, জমি থেকে যে ধান পেতাম তাতে সারা বছর আমার সংসার চলে যেতো। যেভাবে তারা আমার জমির মাটি কাটছে এতে করে আমার আর দুঃখের শেষ থাকবে না। প্রশাসনের কাছে আমার মিনতি- তারা যেন অবিলম্বে এই মাটি কাটা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামে অনুমতির শর্ত ভঙ্গ করেই খনন করা হচ্ছে পুকুর। স্থানীয় কাজী আরহাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি পুরাতন পুকুর সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করলে প্রশাসন তাদের লিখিত অনুমতি দেন। তবে শর্ত দেন পুকুরের গভীরতা অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ ফিট পুনঃখনন করা যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পুকুর দৈর্ঘ্য ৩১৮ মিটার ও প্রস্থ ৩০৭ মিটার খনন করতে হবে। পার্শ্ববর্তী জমির ক্ষতিসাধন করা যাবে না এবং ১:২ ঢালে পাড় বাধাই করতে হবে। এসব শর্তে পুকুর খননের অনুমতি দিলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ব্যাপারে কাজী আরহাম হোসেন বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই শর্ত মেনেই মাটি কাটছেন তারা। তবে আরেক অভিযুক্ত লিটন এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম বলেন, কাউকে মাটি কাটার অনুমতি দেয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবুজের বুকে দানবের থাবা
ইমরান হোসেন সুজন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা) থেকে
১৫ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
