সিলেট সিটিতে চার প্রার্থী মাঠে

সিলেট সিটিতে চার প্রার্থী মাঠে

ফন্ট সাইজ:

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীর সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ে প্রার্থী দিতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ চার রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সর্বশেষ প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন। এখন পর্যন্ত ঘোষিত প্রার্থীদের সবাই নতুন মুখ। এদিকে বিএনপি’র প্রার্থীও হবেন নতুন মুখ। সিলেট সিটির বিএনপি’র সাবেক মেয়র ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি এখন এমপি হয়ে মন্ত্রী। ফলে বিএনপি থেকে যাকেই প্রার্থী দেয়া হবে তিনি হবেন নতুন মুখ। বেশ কয়েকজন প্রার্থী দলীয় ফোরামে প্রার্থিতার লড়াইয়ে রয়েছেন। মাঠেও তারা সক্রিয়। ইসলামী আন্দোলন সিলেটের শীর্ষ নেতা ডা. রিয়াজুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর নাম দলের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম গতকাল বিকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে যুব জমিয়তের অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছেন। দলের মেয়র প্রার্থী সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবু তাহের মিসবাহ। তিনি বলেন- প্রার্থী ঘোষণার পর আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মেয়র প্রার্থী এখন থেকেই প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় থাকবেন। তিনি জানান- অতীতে দু’টি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিয়েছিল। তারা ভোটের মাঠে জয়ী না হলেও ভোটার মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। এবার জয়ের জন্য তারা মাঠে নামবেন।

এদিকে এবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দল থেকে গত ৩রা সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হচ্ছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল। জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন- সিলেটে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে ড. বাবুলের ত্যাগ অনেক বেশি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। এ ছাড়া নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে। ফলে আগে থেকেই প্রার্থী ঘোষণা করে তাকে মাঠে নামানো হয়েছে। প্রার্থিতা ঘোষণা করার পর ড. বাবুল প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও নির্দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন। তবে এবারের মেয়র প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে কিছুটা অস্থিরতা চলছে বলে জানিয়েছেন কর্মী-সমর্থকরা। ক’দিন আগে দল থেকে রুকুনিয়াত বাতিল করা হয়েছে জামায়াত নেতা লোকমান আহমদের। তিনি নিজ থেকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে এই অস্থিরতা তৈরি হয়।

এরপর জেলার এই নেতার রুকুনিয়াত স্থগিত করা হয়। জামায়াত নেতা লোকমানের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন- আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন লোকমান আহমদ। দলের প্রতি ত্যাগ রয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে জোটগত ভাগ-বাটোয়ারায় সিলেট-৩ আসনে তাকে বলি দেয়া হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে লড়াইয়ের আসন হাতছাড়া হয় জামায়াতের। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এবারের মেয়র প্রার্থী মাওলানা আতাউর রহমান। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লন্ডনের সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা। ছাত্র জমানায় সিলেটে ছাত্র মজলিস ও খেলাফত মজলিসের রাজনীতি করেছেন। কাজির বাজার মাদ্রাসার প্রয়াত প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের জামাতা তিনি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা জানিয়েছেন- সিলেটে ব্যাপকভাবে পরিচিত রয়েছেন মাওলানা আতাউর রহমান। প্রিন্সিপালের জামায়াত হিসেবে তিনি সবার কাছে পরিচিত।

নগরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভোটব্যাংক রয়েছে। মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সিলেট নগরের আগামীর উন্নয়ন পরিকল্পনা তিনি তুলে ধরেছেন। এবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিচ্ছে এনসিপি। গত ২৯শে মার্চ জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেন। এনসিপি’র সিলেটের মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন এনসিপি’র সিলেট অঞ্চলের আহ্বায়ক এডভোকেট আবদুর রহমান আফজাল। প্রার্থী ঘোষণার পর তিনি প্রচারণা শুরু করেছেন।