ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ার স্বস্তি অবশ্য ম্যাচ শেষে খুব একটা ছিল না। বরং কোচ থমাস ডুলির একাদশ নির্বাচন, খেলোয়াড়দের পজিশন পরিবর্তন ও কৌশল নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সমর্থকদের পাশাপাশি সাবেক ফুটবলারদেরও সমালোচনার মুখে পড়েছেন জার্মান এই কোচ। ক্যারিয়ারজুড়ে ডিফেন্ডার হিসেবে খেলা বিশ্বনাথ ঘোষকে ভুটানের বিপক্ষে খেলানো হয়েছে স্ট্রাইকারের ভূমিকায়। কোচের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি। তার মতে, সাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা নয়। এমিলি বলেন, ‘সাফ বাংলাদেশের জন্য কোনো পরীক্ষার মঞ্চ নয়। কোনো প্রীতি ম্যাচ হলে তিনি পরীক্ষা করতে পারতেন। গতকাল বাংলাদেশ গোল না পেলে, ম্যাচ ড্র হলে বড় চাপে পড়তে হতো। আমি বিশ্বনাথকে দোষ দেবো না। সে তার সামর্থ্যের পুরোটা দেয়ার চেষ্টা করেছে।
কিন্তু কোচ তাকে কেন সেখানে খেলাবেন?’ বাংলাদেশের ফুটবলে নাম্বার নাইন সংকট নতুন নয়। এবার সেই ঘাটতি পূরণে দুই প্রবাসী ফুটবলার রোনান ও মাহে খানের ওপর ভরসা ছিল। কিন্তু চোটের কারণে রোনান আসতে পারেননি। অন্যদিকে মাহে খানকে নিয়ে কোচ নিজেই প্রত্যাশার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তাকে রাখেননি ২৩ জনের চূড়ান্ত দলে। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এমিলি। তার ভাষায়, ‘নাম্বার নাইন দলে এখন একজনই। কোচ তার এত প্রশংসা করে এখন কেন ২৩ জনে রাখবেন না, সেটা বোধগম্য নয়।’ ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ইব্রাহিম। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তার করা গোলেই আসে তিন পয়েন্ট। অথচ ফর্টিজের হয়ে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে ভালো করা এই ফরোয়ার্ডকে রাখা হয়েছিল বেঞ্চে। ইব্রাহিমের মতো ফর্মে থাকা একজন খেলোয়াড়কে শুরু থেকে না খেলানোয় হতাশ এমিলি। শুধু ইব্রাহিম নন, সোহেল রানাও বদলি হিসেবে নামার পর বাংলাদেশের খেলায় গতি ও আক্রমণের ধার বাড়ে। এমিলির পর্যবেক্ষণ, ‘ইব্রাহিম ও সোহেল রানা নামার পরই খেলার
চিত্র বদলেছে। ইব্রাহিম পরীক্ষিত ফরোয়ার্ড, সে খুব ফর্মে রয়েছে। তাকে শুরু থেকে খেলানো উচিত ছিল।’ জয় দিয়ে শুরু হলেও বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে আগামীকাল ভুটান শ্রীলঙ্কার কাছে হারলে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে পারে বাংলাদেশের সামর্থ্য ও প্রস্তুতির প্রকৃত পরীক্ষা। প্রবাসী ফুটবলারনির্ভর দলটির বিপক্ষে ৯ই নভেম্বর ফিফা উইন্ডো শুরুর দিন হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা। তাঁদের অন্তর্ভুক্তিতে দলের শক্তি বাড়বে, সন্দেহ নেই। কিন্তু ভুটান ম্যাচে ডুলির কৌশল ও দল পরিচালনার যে দুর্বলতা সামনে এসেছে, তা লঙ্কা ম্যাচের আগে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে ভুটানের ম্যাচে তার অতিমাত্রায় পরীক্ষা নিরীক্ষা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিন পয়েন্ট এসেছে, কিন্তু প্রশ্নও কম নয়। সাফের শিরোপা জিততে হলে শুধু জয় নয়, মাঠে পরিকল্পনা ও খেলোয়াড় ব্যবহারের সঠিক সিদ্ধান্তও জরুরি।
