যুদ্ধে কেউ জেতে না। কেউ হারায় সন্তান, কেউ হারায় স্বজন, কেউ হারায় ঘরবাড়ি, আর বিশ্ব অর্থনীতি বহন করে তার দীর্ঘস্থায়ী মূল্য। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন ভোটাররা কি শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধেও দিয়েছেন স্পষ্ট বার্তা? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে ডেমোক্র্যাটরা কি সত্যিই ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবেন?
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে এই ফলাফল নিঃসন্দেহে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। শুধু আসন হারানো নয়, এই পরাজয় ট্রাম্পের নেতৃত্ব, তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং ইরান নীতির ওপর মার্কিন জনগণের অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিফলন।
নির্বাচনের ফল নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, মার্কিন জনগণ রিপাবলিকানদের পরাজিত করে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তেহরান স্বাভাবিকভাবেই এই ফলাফলকে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থানের পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে তুলে ধরতে চাইবে।
কিন্তু নির্বাচনের ফলকে সরাসরি যুদ্ধ বন্ধের গণরায় হিসেবে ব্যাখ্যা করাও বাস্তবসম্মত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক বিতর্ক এবং ইরান যুদ্ধ। অর্থাৎ যুদ্ধবিরোধী মনোভাব নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছে, কিন্তু সেটিই একমাত্র কারণ নয়। নির্বাচনের রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান পথ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়।
ট্রাম্প কি নির্বাচনের বার্তা বুঝেছেন? নির্বাচনের আগে থেকেই ট্রাম্পের বক্তব্যে একটি দ্বৈত অবস্থান লক্ষ করা গেছে। একদিকে তিনি দাবি করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করছে। অন্যদিকে প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতির কথা বলছেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে, যদিও নতুন করে হামলার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
এই বক্তব্যের মধ্যে কূটনৈতিক আশ্বাসের পাশাপাশি সামরিক হুমকিও রয়েছে। অর্থাৎ ওয়াশিংটন এখনই যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে চায় না, কিন্তু সামরিক বিকল্পও টেবিল থেকে সরিয়ে দিচ্ছে না।
এখানেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও সামরিক হিসাবের জটিলতা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি নিজ দলের মধ্যেও বিরোধিতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যখন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ ভোটারদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
ট্রাম্প নিজেও নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ভূমিকা স্বীকার করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি যুদ্ধকে নির্বাচনের ফলাফলের একটি কারণ হিসেবে মেনে নিলেও নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছেন। অর্থাৎ রাজনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি বুঝলেও যুদ্ধনীতির দায় পুরোপুরি স্বীকার করতে তিনি রাজি নন।
ডেমোক্র্যাটদের হাতে কতটা ক্ষমতা? এ প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে মার্কিন সংবিধান ও কংগ্রেসের ক্ষমতার কাঠামো বুঝতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা, সামরিক বাহিনীর জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ওপর কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। ফলে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের ক্ষমতা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এক নয়।
১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে সামরিক সংঘাতে মার্কিন বাহিনী জড়ানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সংঘাতে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে সাধারণত ৬০ দিনের সীমা রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রত্যাহারের জন্য আরও ৩০ দিন পাওয়া যেতে পারে।
কিন্তু বাস্তবে এই আইন প্রয়োগ এবং এর সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনও যুদ্ধবিরতি ও সংঘাতের প্রকৃতি নিয়ে ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছে। ফলে কেবল আইন উল্লেখ করলেই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
তবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে এখন দুটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির সুযোগ অনেক বেড়েছে।
প্রথমত, যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া বা সামরিক ব্যয়ের ওপর শর্ত আরোপের উদ্যোগ নিতে পারে কংগ্রেস। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের উদ্দেশ্য, সামরিক অভিযান, বেসামরিক প্রাণহানি এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে। তৃতীয়ত, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নতুন অনুমোদন চাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে রাজনৈতিক ও আইনগত চাপের মুখে ফেলতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে বাধ্যতামূলক আইন পাস হলে প্রেসিডেন্ট সেটিতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অতিক্রম করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা একাই সেই নিশ্চয়তা দেয় না।
সুতরাং ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধ থামানোর পথ তৈরি করতে পারবেন, কিন্তু এককভাবে প্রেসিডেন্টের সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, এমন ধারণা অতিরঞ্জিত।
ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে মার্কিন নির্বাচনের ফল একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তেহরান জানে, ট্রাম্পের জন্য এখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা আগের চেয়ে কঠিন হবে। কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণ মানে প্রশাসনের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের ওপর বাড়তি নজরদারি।
কিন্তু ইরানও নিশ্চয়ই জানে, মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দল পরিবর্তন হলেই পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণ বদলে যায় না। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের প্রশ্নে দুই দলের অবস্থানের কিছু মৌলিক মিল রয়েছে।
ট্রাম্পের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ। তিনি এই মজুদকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য, শত শত টন পাথরের নিচে চাপা থাকলেও ওই ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। কারণ ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সমঝোতা ছাড়া ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন।
ইরান চাইবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং নিজের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইবে পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা সম্ভব হলেও তা সহজ নয়।
হরমুজ প্রণালি: যুদ্ধের চেয়েও বড় অর্থনৈতিক অস্ত্র! ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রভাবের একটি হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে।
ইতিমধ্যে কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তেহরান এসব পদক্ষেপকে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ হিসেবে দেখছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে আসার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির প্রত্যাশাও ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বাজারের এই স্বস্তি স্থায়ী হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংঘাতের ভবিষ্যতের ওপর।
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ইরান যুদ্ধ শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা, এশিয়ার শিল্প উৎপাদন, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্যও এই সংঘাতের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেই চাপ আরও বাড়বে।
যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কার? মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি পথ।
এক. সামরিক চাপ বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে ইরানের কাছ থেকে সমঝোতা আদায় করা।
দুই. নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে সামরিক বিজয়ের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা।
তিন. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া।
প্রথম পথটি ট্রাম্পের বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। দ্বিতীয় পথটি তার জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। আর তৃতীয় পথটি সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হলেও এর জন্য উভয় পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হবে।
ডেমোক্র্যাটদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিলে চলবে না। তাদের সামনে বিকল্প কূটনৈতিক রূপরেখা, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বাস্তবসম্মত প্রস্তাব থাকতে হবে।
নির্বাচনে হার, যুদ্ধেও কি হারবেন ট্রাম্প? মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় নিঃসন্দেহে ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ট্রাম্প এখন আর আগের মতো নির্বিঘ্নে সামরিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কংগ্রেসে তদন্ত, অর্থায়ন নিয়ে বিরোধিতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির চাপ তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
কিন্তু এটিও সত্য, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় মানেই ইরানের বিজয় নয়। আবার ট্রাম্পের সামরিক শক্তি থাকলেই ইরানকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা সম্ভব নয়।
যুদ্ধের মাঠে সামরিক সাফল্য অর্জন করা যায়, কিন্তু সেই সাফল্যকে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে রূপ দেওয়া অনেক কঠিন। ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেই শিক্ষাই রেখে গেছে।
এখন প্রশ্ন, ট্রাম্প কি নির্বাচনের বার্তা বুঝে কূটনীতির পথে হাঁটবেন, নাকি নিজের সামরিক অবস্থান প্রমাণ করতে গিয়ে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি নেবেন?
ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধ থামানোর চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন। কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, তেহরানের বাস্তবসম্মত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর মধ্যস্থতা।
কারণ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে কেউই প্রকৃত অর্থে জেতে না। বিজয়ের ঘোষণা দেয় রাষ্ট্র, কিন্তু পরাজয়ের মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ। শান্তির পক্ষে ভোট পড়েছে কি না, তার চূড়ান্ত প্রমাণ মিলবে নির্বাচনের ফলাফলে নয়, যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্তে।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট
E-mail: [email protected]
ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ে কি থামবে ইরান যুদ্ধ?
নিয়াজ মাহমুদ
মত-মতান্তর
২ ঘন্টা আগে
৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ১০ঃ৩১ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
