হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে অসঙ্গতির অভিযোগ আমির হামজার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে তথ্যের অসঙ্গতি, তথ্য গোপন এবং মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক ভোটার। মঙ্গলবার বিকালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাব, নগদ অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, স্ত্রীর সম্পদের বিবরণ, বাড়িভাড়া থেকে আয়, মোটরযানের মূল্য, পারিবারিক ব্যয় এবং নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় দেয়া তথ্যের সঙ্গে তার আয়কর রিটার্ন এবং অন্যান্য নথিতে উল্লিখিত তথ্যের বেশ কিছু অমিল রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ব্যালেন্স ও নগদ অর্থের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তার দাবি, আয়কর রিটার্নে ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট সময়ে ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ থাকার তথ্য রয়েছে। একইভাবে নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা নগদ অর্থের পরিমাণের সঙ্গে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত অর্থেরও পার্থক্য রয়েছে।
এ ছাড়া আমির হামজার স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত তথ্য, তার নামে থাকা কৃষি ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণ এবং কুষ্টিয়া শহরে সংসদ সদস্যের নিজ নামে থাকা একটি আবাসিক প্লটের তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারী।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য, বাড়িভাড়া থেকে অর্জিত আয়, পারিবারিক ব্যয় এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়ের হিসাবেও অসঙ্গতি রয়েছে। পাশাপাশি হলফনামায় উল্লেখ করা স্বর্ণের পরিমাণ ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিরাজুল ইসলাম। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করলে এসব অসঙ্গতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

সিরাজুল ইসলাম তার আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯১(৫) ধারা অনুযায়ী অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে একই আদেশের ৯১(২) ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা, নির্বাচন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছেন তিনি। আবেদনের সঙ্গে আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামার অনুলিপি, আয়কর রিটার্ন, স্ত্রীর আয়কর-সংক্রান্ত কাগজপত্র, নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী, গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সম্পত্তির দলিল সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি কুষ্টিয়া-৩ আসনের একজন ভোটার ও সচেতন নাগরিক হিসেবে এ অভিযোগ করেছি। এসব তথ্য সবার সামনে উন্মুক্ত হওয়া এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।