কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের একটি চালান আত্মসাতের বিরোধকে কেন্দ্র করে চারজনকে ধরে নিয়ে পাহাড়ে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোক্তার কামাল (৩৫) ও মোহাম্মদ আকবর প্রকাশ আব্বুইয়া নামের দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার সকালে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী ভিলেজার পাড়ায় বন বিট অফিসের পাশ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দুপুরে অপর একটি স্থান লেচুয়াপ্রাং মুরং পাহাড় থেকে আকবরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসের পাশে কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে দেখা যায়, মোক্তার নামের একজন মৃত অবস্থায় ছিল। এ সময় একই ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে ইলিয়াস এবং স্থানীয় বাসিন্দা অলী আহমদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোক্তার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার বাসিন্দা। আহত ইলিয়াস জানান, মাদকের একটি বড় চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি গ্রুপের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে ডাকাত দলের সদস্যরা সেই চালানটি ছিনিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, পরে ছিনিয়ে নেয়া চালানের ১০ কার্ট (১ কার্টে ১০ হাজার) উদ্ধার করা হলেও বাকি ৩ কার্ট আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। ইলিয়াসের ভাষ্যমতে, তুলাতুলীর মিজান নামের এক ব্যক্তি গত সোমবার (২রা নভেম্বর) রাতে ‘বিচার করার কথা’ বলে তাদের চারজনকে হ্নীলার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে তুলে দেন। ওই গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা তাদের পাহাড়ে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে মোক্তারের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে ও অলীকে উদ্ধার করলেও তাদের সাথে থাকা অপর একজন নিখোঁজ ছিল। পরে দুপুরে হ্নীলা উলুচামরী-লেচুয়াপ্রাং মধ্যবতী মুরংপাহাড়ের পেয়ারা বাগান থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে স্থানীয়রা তার পরিচয় শনাক্ত করে। আহতদের দাবি, এই মাদকের চালানের মূল মালিক হ্নীলারই এক শীর্ষ মাদক কারবারি। তবে তিনি তার নাম জানেন না বলে জানান। ঘটনা প্রসঙ্গে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ইয়াবা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়া চলছে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ হ্নীলার পানখালী এলাকা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া একই স্থান থেকে আহত দু’জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে দুপুরে লেচুয়াপ্রাং পাহাড় থেকে আরো একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
