রংপুর নগরীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে একাধিক সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে দখলকারীরা। বুধবার বিকালে নগরীর খামার মোড় থেকে লালবাগ রেল ক্রসিং পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামে রংপুর সিটি করপোরেশন। সেই সংবাদ সংগ্রহের জেরেই সাংবাদিকদের ওপর লাঠিসোটা, বঁটিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তেড়ে আসে দখলকারীরা। এ ছাড়া সাংবাদিকদের মোবাইল, ক্যামেরা কেড়ে নেয়া, লাইভ চলাকালীন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়াসহ নানাভাবে সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয়। এ সময় পুলিশ প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত থাকলেও, তারা এ নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেন। সাংবাদিক রেদওয়ান হিমেল বলেন, ‘আমি লাইভ করছিলাম। সেই লাইভ চলাকালীন একজন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে।
আমি কৌশলে তাকে থামতে বললে তিনি আরও জোর গলায় গালিগালাজ করেন। আরও একজন তো আমার দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে।’ সাংবাদিক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহ করতে এসে উচ্ছেদের কিছু ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় এক নারী এসে আমার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে চলে যায়। পরে মোবাইলটি ফেরত দেয়ার অনুরোধ করলে তারা আমাকে মারার হুমকি দেয়।
পুলিশ প্রশাসনের লোকজন সেখানে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের ওপর এমন আচরণ দুঃখজনক।’ তাৎক্ষণিক বিষয়টি ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসানকে সাংবাদিকরা অবহিত করলেও তিনি সেখানে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে রংপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান বলেন, ফুটপাথে নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিতে গত এক মাস ধরে রংপুর জেলা প্রশাসন, রংপুর সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেসব ফুটপাথ এখনো অবৈধ দখলে রয়েছে তা উচ্ছেদ করা হবে।
