চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা মোড় এলাকায় থাকেন মশিউর রহমান। জনবহুল এলাকায় ফেলা হচ্ছে নানা বর্জ্য। এতে ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী মশিউরের মতো অনেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মশিউর বলেন, ট্রাকে করে ময়লা এনে নয়াগোলা ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হয়। বাতাস এলে গন্ধ ছড়ায়। দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বাসাবাড়ির সব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় নয়াগোলা মোড়ের সড়কের পাশে। এই ডাম্পিং স্টেশনের অবস্থান পুলিশ লাইনের ঠিক বিপরীতে জনবহুল এলাকায়। আরেকটি শহরের দ্বারিয়াপুরে। মোটকথা নয়াগোলা ও দ্বারিয়াপুর ল্যান্ডফিল্ড দু’টি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, শত বছরের পুরনো এই পৌরসভায় গড়ে ওঠেনি পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ভুল পরিকল্পনার কারণে কাজে আসছে না ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একমাত্র স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড।
ফলে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলছে সনাতন পদ্ধতিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকরী কোনো সমাধান আসেনি। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে পৌরসভা। বর্জ্য থেকে উৎপাদন করা হবে কম্পোস্ট সার। এই লক্ষ্যে আজ বিদ্যমান স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড আধুনিকায়নে নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আইইউজিআইপি) ও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পরিদর্শন করবেন। পৌরসভা সূত্র বলছে, পৌরসভায় এখন প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ টন বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে, পৃথক্করণ না করেই প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ টন সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরজমিন নয়াগোলা ডাম্পিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার অধিকাংশ ময়লা-আবর্জনা খোলা ওই স্থানেই ফেলা হচ্ছে। ফলে ময়লার ওই স্তূপ প্রতিদিনই উঁচু হচ্ছে; বাড়ছে এর প্রশস্ততা।
নয়াগোলা ও দ্বারিয়াপুর ল্যান্ডফিল্ড দু’টির ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে এসেছে। দ্বারিয়াপুর স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড বলা হলেও এতে আধুনিক ব্যবস্থাপনা নেই। এছাড়া নয়াগোলা ডাম্পিং স্টেশনে প্রায় ১০ ফুট উঁচু বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে। ফলে দুই ল্যান্ডফিল্ডের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বর্জ্যের পরিমাণ। ২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বর্জ্যে অনেক ‘ডাস্ট পার্টিকল’ রয়েছে, যা বাতাসে ওড়ে। আমরা আবার তা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করি। পৌরসভার শহর-পরিকল্পনাবিদ ইমরান হোসাইন জানান, বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা করতে নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিদ্যমান স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড আধুনিকায়নে আইইউজিআইপি ও এডিবি’র অর্থায়নে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ পরিকল্পনায় বর্জ্যের ধরনের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থাপনা করা হবে।
বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার উৎপাদন, রিসাইক্লিং প্লান্টের মতো সুবিধা থাকবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। আমরা নিয়মিত প্রায় ৫০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করছি, কিন্তু স্থায়ী ও আধুনিক ল্যান্ডফিল সুবিধা না থাকায় পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
