অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান: অমিতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, অঢেল সম্পদের সন্ধান

অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান: অমিতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, অঢেল সম্পদের সন্ধান

ফন্ট সাইজ:

স্বর্ণ চোরাচালান, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও পুলিশ হত্যাসহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি আজমির ওরফে অমিত। শুধু অপরাধজগতেই নয়, রাজধানী ঢাকা ও নিজ জেলা নোয়াখালীর হাতিয়ায় ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে অঢেল অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ডজনখানেক মামলার পাশাপাশি শতকোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অমিতের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ভালুকা এবং ঢাকার বিমানবন্দর ও রমনা থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে অস্ত্র, বিস্ফোরক, স্বর্ণ চোরাচালান ও পুলিশ হত্যার অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, বাড্ডা, সাতারকুল, উত্তরা, দক্ষিণখান ও হাতিয়ায় রয়েছে বিলাসবহুল ভবন, একাধিক ফ্ল্যাট, বহুমূল্যবান জমি এবং তেলের ট্যাংকার।

নথি অনুযায়ী, অমিতের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ভালুকা থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও পুলিশ হত্যা মামলা রয়েছে। ত্রিশাল থানার ২১ নম্বর মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ৫১/২০১৮-কে অস্ত্র মামলা এবং একই মামলার ৫৩/২০১৮ নম্বরটিকে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ত্রিশাল থানার ২০ নম্বর মামলার দায়রা মামলা নম্বর ৯৭৭/২০২০-কে পুলিশ হত্যার মামলা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে ভালুকা থানার ২০ নম্বর মামলার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ৫৭/২০১৫ বিস্ফোরক-সংক্রান্ত বলে দাবি করা হয়েছে। ভালুকা থানার আরও একটি মামলার মূল নম্বর পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের ১/২০২০ ও ৩/২০২০ নম্বরের মামলার তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে চোরাচালান-সংক্রান্ত দুটি মামলা এবং রমনা থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় প্রায় ছয় কাঠা জমির ওপর অমিতের একটি বহুতল ভবন রয়েছে। সাতারকুল রোডের ২৪৪ নম্বর ঠিকানার ভবনটি একটি তৈরি পোশাক কারখানার কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

জমিসহ ভবনটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। একই এলাকায় আরও দুটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। ফ্ল্যাট দুটির সম্মিলিত আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে সূত্রের দাবি।
উত্তরায় অমিতের আরও তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাটগুলোর সম্মিলিত আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণখানে ১৪ কাঠা জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ার হন্নি গ্রামে অমিতের বাড়ি ও কয়েক বিঘা জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সেখানে একটি তেলের ট্যাংকার থাকার কথাও বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজমির ওরফে অমিতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।