গতকাল অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য ডেমোক্রেটদের হাতে ফিরেছে। রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের কাছে হারিয়েছে। এখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তার মেয়াদের শেষ দুই বছর বিরোধী দল-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হবে। প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতাকে তার চূড়ান্ত সাংবিধানিক কর্তৃত্ব হিসেবে তুলে ধরার ঘোষণাটি এখন নিছক রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ও ক্যাপিটল হিলের মধ্যে আইন প্রণয়নসংক্রান্ত সম্পর্কের গতিপথও এর মাধ্যমে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।
তবে এখানে একটি মৌলিক সাংবিধানিক পার্থক্য রয়েছে, যা বিশেষভাবে গুরুত্বের দাবি রাখে। আইন প্রণয়নে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা মানে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে দেশ পরিচালনার ক্ষমতা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থা এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা পৃথক পৃথক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বণ্টিত থাকে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব স্বাধীন দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। প্রেসিডেন্ট কোনো আইন প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, কিন্তু কংগ্রেসের তদারকি কার্যক্রমে ভেটো দিতে পারেন না; বাজেট বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক বন্ধ করতে পারেন না; সিনেটের অনুমোদনসংক্রান্ত দায়িত্ব বিলুপ্ত করতে পারেন না কিংবা আইনসভার সাংবিধানিক ভূমিকা স্থগিত করতে পারেন না।
তাই ট্রাম্পের সামনে আসন্ন চ্যালেঞ্জটি কেবল আইন প্রণয়নে বাধা সৃষ্টি হওয়ার প্রশ্ন নয়। বরং এটি এমন এক পরীক্ষা, যেখানে নির্বাহী ও আইন প্রণয়নকারী শাখার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকে, তা স্পষ্ট হবে।
এর সাংবিধানিক তাৎপর্য যথেষ্ট গভীর। কারণ, প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার বৃহত্তর ব্যবস্থার একটি অংশমাত্র। সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদের সপ্তম ধারা প্রেসিডেন্টকে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সেই ভেটো অগ্রাহ্য করার সুযোগও রেখেছে। প্রেসিডেন্টের হাতে কংগ্রেসের ওপর কোনো নিরঙ্কুশ আইন প্রণয়নসংক্রান্ত ভেটো নেই। প্রেসিডেন্ট কোনো নির্দিষ্ট বিলে ভেটো দিয়ে সেটি আটকে দিতে পারেন, যদি না কংগ্রেস প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনে তা পুনরায় পাস করে। কিন্তু এর মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসের আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক দায়িত্ব স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে পারেন না কিংবা জননীতিসংক্রান্ত আলোচনার পথ রুদ্ধ করতে পারেন না।
এখানেই ট্রাম্পের ভেটো কৌশল প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারে। ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসননীতি, বাণিজ্যনীতি, করব্যবস্থা, পরিবেশনীতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়সংক্রান্ত অগ্রাধিকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে পারে। ট্রাম্প এসব বিলে ভেটো দিলেও রাজনৈতিক পরিণতি এড়াতে পারবেন না। প্রতিটি ভেটোর পর প্রশাসনকে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন তারা কংগ্রেসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা এসব বিরোধকে নিজেদের আইন প্রণয়নসংক্রান্ত অগ্রাধিকার জনগণের সামনে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
তবে ডেমোক্রেটদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতারও বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সিনেটের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ফিলিবাস্টার অতিক্রম করে বিতর্ক শেষ করতে সাধারণত ৬০ জন সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের হাতে গেলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের সব নীতিগত প্রস্তাব আইনে পরিণত করতে পারবে—এমন নয়। তাদের দ্বিদলীয় সমর্থন আদায়, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিকল্প প্রক্রিয়াগত পথ অনুসরণ কিংবা পর্যাপ্ত সমর্থন পাওয়া সম্ভব এমন আইনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ফলে ব্যাপক নীতিগত পরিবর্তনের বদলে আইন প্রণয়নে অচলাবস্থাও তৈরি হতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা শুধু আইন পাস করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কংগ্রেসের তদারকি ও তদন্ত কার্যক্রম আইনসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক দায়িত্ব। সংবিধানে আলাদা করে তদারকির কোনো ধারা না থাকলেও, আইন প্রণয়নের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্তর্নিহিত ক্ষমতা হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট কংগ্রেসের তদন্তের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কমিটি, শুনানি, নথি তলব এবং সমন জারির মাধ্যমে আইনপ্রণেতারা প্রশাসনের আইন বাস্তবায়ন, অভিবাসন প্রয়োগনীতি, সরকারি চুক্তি, ব্যয়ের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে তদন্ত করতে পারবেন।
এসব তদন্তের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হবে না। একইভাবে কংগ্রেসের তদারকি ক্ষমতারও সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবু এ ধরনের তদন্ত হোয়াইট হাউসের ওপর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আইন প্রণয়নের মতো এসব তদন্তের জন্য উভয় কক্ষে বিল পাস কিংবা প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না—যদি সংশ্লিষ্ট কমিটি যথাযথভাবে তার তদন্তের ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
সিনেটও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় ধারা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ফেডারেল বিচারক, রাষ্ট্রদূত এবং নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদের জন্য মনোনয়ন দিতে পারেন। তবে এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের পরামর্শ ও সম্মতি প্রয়োজন। ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত সিনেট মনোনীত ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও অতীত কর্মকাণ্ড গভীরভাবে যাচাই করতে পারে, নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে কিংবা মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অধিকাংশ ফেডারেল বিচারক আজীবন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ফলে শূন্য পদ পূরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
সরকারি অর্থ বরাদ্দের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি। সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদের নবম ধারার সপ্তম উপধারায় বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী বরাদ্দ অনুমোদন ছাড়া ট্রেজারি থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। ডেমোক্রেটরা সরকারি অর্থায়ন, প্রতিরক্ষা ব্যয়, অভিবাসন কার্যক্রম এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কর্মসূচির বাজেট নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনের অগ্রাধিকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের নেতৃত্বের মধ্যে বাজেট নিয়ে সমঝোতা না হলে এসব আলোচনা বিশেষভাবে সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং সাময়িক সরকারি অচলাবস্থা বা শাটডাউনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অভিশংসনের বিষয়টিও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক আলোচনায় আবার ফিরে আসতে পারে। ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ যদি মনে করে যে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনের যথেষ্ট সাংবিধানিক ভিত্তি রয়েছে, তাহলে তারা এ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। তবে অভিশংসন এবং পদ থেকে অপসারণ দুটি পৃথক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। প্রতিনিধি পরিষদ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অভিশংসনের অভিযোগ অনুমোদন করতে পারে, কিন্তু সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে অপসারণের জন্য উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ফলে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের হাতে গেলেও শুধু সেই কারণে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ নিশ্চিত হবে না।
ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদ একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত
বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের অভিজ্ঞতা সামনে কী ঘটতে পারে, তা বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে। ২০১৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ফলে ওবামার মেয়াদের শেষ দুই বছর বিভক্ত সরকারব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়।
কংগ্রেসের বিরোধিতার মুখে ওবামা নির্বাহী আদেশ, প্রশাসনিক বিধিবিধান এবং অন্যান্য একতরফা নির্বাহী পদক্ষেপের ওপর ক্রমশ বেশি নির্ভর করতে শুরু করেন। ২০১৪ সালে তার বিখ্যাত ঘোষণা—“আমার হাতে একটি কলম আছে, একটি ফোন আছে”—এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন না হলেও নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় তিনি তার নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। রিপাবলিকান-সমর্থিত কিছু আইন প্রস্তাব আটকে দিতে তিনি প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতাও ব্যবহার করেন।
ওবামা তার পুরো প্রেসিডেন্ট মেয়াদে ১২টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। কংগ্রেস এর মধ্যে মাত্র একটিকে অগ্রাহ্য করতে সক্ষম হয়েছিল—২০১৬ সালের জাস্টিস এগেইনস্ট স্পনসরস অব টেররিজম অ্যাক্ট । আইনটি সিনেটে ৯৭-১ এবং প্রতিনিধি পরিষদে ৩৪৮-৭৭ ভোটে পাস হয়েছিল, যা এর পক্ষে ব্যাপক দ্বিদলীয় সমর্থনের প্রতিফলন।
ঐতিহাসিক তুলনাটি তাৎপর্যপূর্ণ, তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা এবার উল্টো। ওবামাকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস; আর ট্রাম্পের সামনে ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস। উভয় প্রেসিডেন্টই বিভক্ত সরকারের পরিস্থিতিতে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভর করতে পারেন এবং নিজেদের নীতিগত অবস্থান রক্ষায় ভেটো ব্যবহার করতে পারেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে, তিনি শুধু তার প্রশাসনের নীতি রক্ষার জন্য নয়, বরং কংগ্রেসের বিরোধিতার বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবেও নির্বাহী পদক্ষেপের সম্ভাবনাকে ব্যবহার করতে চান। ৩ নভেম্বর সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তকে নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তৃত ব্যাখ্যার পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ওপর প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্বের বিষয়ে। ডেমোক্রেটরা তার প্রশাসনকে সীমিত করার চেষ্টা করলে তিনি অতিরিক্ত নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দেন।
তবে নির্বাহী ক্ষমতা সীমাহীন নয়। এর প্রয়োগ সংবিধান, বিদ্যমান আইন এবং বিচারিক পর্যালোচনার অধীন। প্রেসিডেন্ট ইচ্ছামতো কার্যকর কংগ্রেসীয় আইন উপেক্ষা করতে পারেন না। নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনভাবে সরকারি অর্থ বরাদ্দ সৃষ্টি করতে কিংবা আইনে নির্ধারিত বাধ্যবাধকতা বাতিল করতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতার পৃথকীকরণ সংক্রান্ত বিচারিক ব্যাখ্যা, বিশেষ করে ১৯৫২ সালের 'ইয়ংস্টাউন শিট অ্যান্ড টিউব কোম্পানি বনাম সয়ার' মামলার রায়, কংগ্রেসের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে নির্বাহী পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
ফলে ভেটো ক্ষমতার পাশাপাশি বিস্তৃত নির্বাহী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করার ট্রাম্পের কৌশল ওবামার অভিজ্ঞতার তুলনায় আরও জটিল সাংবিধানিক সংঘাত তৈরি করতে পারে। এতে শুধু প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের সম্পর্কই নয়, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে বিচার বিভাগের ভূমিকাও নতুন করে পরীক্ষার মুখে পড়বে।
প্রকৃত পরীক্ষা: প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা
শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য শুধু ট্রাম্প কতটি বিলে ভেটো দেবেন কিংবা ডেমোক্রেটরা কতটি তদন্ত শুরু করবেন, তা দিয়ে নির্ধারিত হবে না। বরং এর প্রকৃত মূল্যায়ন হবে—রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থায় পরিণত না করে নির্বাহী ও আইন প্রণয়নকারী শাখা নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব কতটা পালন করতে পারে।
ডেমোক্রেটদেরও রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরীক্ষা দিতে হবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে পাওয়া মানেই কেবল দলীয় স্বার্থে তদন্ত পরিচালনা কিংবা প্রেসিডেন্টের প্রতিটি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ নয়। তদারকির অবশ্যই বৈধ আইন প্রণয়নসংক্রান্ত উদ্দেশ্য থাকতে হবে, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে প্রমাণিত অসদাচরণ থেকে আলাদা করে দেখতে হবে। একইভাবে হোয়াইট হাউসকেও বুঝতে হবে, কংগ্রেসের বিরোধিতা প্রেসিডেন্সি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে উভয় দলেরই কংগ্রেসে সংঘাতকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবল প্রণোদনা থাকবে। ডেমোক্রেটরা প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার সক্ষমতা প্রমাণ করতে চাইবে, আর রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের বিরোধিতাকে প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের পথে বাধা হিসেবে তুলে ধরবে। এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে নির্বাচনী প্রচারই মুখ্য হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থা মূলত এমন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। ক্ষমতার পৃথকীকরণের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করা নয়; বরং কোনো একটি শাখার হাতে যাতে সীমাহীন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না হয়, তা নিশ্চিত করা। প্রেসিডেন্টের হাতে আইন প্রণয়নে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, কংগ্রেসের হাতে আইন প্রণয়ন, অর্থ বরাদ্দ এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা রয়েছে, আর বিচার বিভাগের দায়িত্ব সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়া ও আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি করা।
ট্রাম্প হয়তো ক্রমশ ভেটো ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল একজন প্রেসিডেন্টে পরিণত হবেন। কিন্তু ভেটো আইন প্রত্যাখ্যানের একটি সাংবিধানিক পদ্ধতি—রাষ্ট্র পরিচালনার বিকল্প নয়। এটি কংগ্রেসের স্বাধীন সাংবিধানিক দায়িত্ব বিলুপ্ত করতে পারে না কিংবা আইন প্রণয়নে সহযোগিতা ছাড়াই প্রশাসনের সব লক্ষ্য বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
তাই ওয়াশিংটনের সামনে মৌলিক প্রশ্নটি ট্রাম্পের হাতে চূড়ান্ত ভেটো ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নয়; বরং তিনি স্বীকার করেন কি না যে সংবিধান কংগ্রেসকেও আইন প্রণয়ন, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহির আওতায় রাখার চূড়ান্ত দায়িত্ব দিয়েছে।
আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক গণতন্ত্রের জন্য একটি নির্ধারক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। প্রশ্ন হলো, প্রাতিষ্ঠানিক সংযম, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব ও কংগ্রেসের তদারকি কি পাশাপাশি চলতে পারবে? নাকি দেশটি আরও গভীর সাংবিধানিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে, যেখানে কোনো পক্ষই কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সক্ষম হবে না?
ওয়াশিংটনের সামনে নয়া চ্যালেঞ্জ: প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো রাষ্ট্র পরিচালনার বিকল্প নয়
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাউসার মুমিন
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
৪ নভেম্বর (বুধবার), ২০২৬, ৪ঃ৩২ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
