‘দোয়া চাই শেষ বিদায়টা যেন সুন্দর হয়’

‘দোয়া চাই শেষ বিদায়টা যেন সুন্দর হয়’

ফন্ট সাইজ:

সৈয়দ পরিবারের মেয়ে কিংবদন্তি অভিনেত্রী মিরানা জামান। অনেকটা সময় ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন। মানবজমিনের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থা জানতেই যোগাযোগ করা হয়। কেমন আছেন? মিরানা জামান বলেন, এখন ভালো আছি। তবে নানা অসুস্থতার মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। দোয়া করবেন যাতে সুস্থভাবে আল্লাহর প্রিয় হয়ে যেতে পারি। যেন কারও মুখাপেক্ষী না হতে হয়। একদিন তো সবাইকে যেতেই হবে সেই বিদায়টা যেন সুন্দর হয়, এই দোয়াই আমি সবার থেকে চাই। হিসাবের খাতায় ১৯৩৬ সালের ২৫শে ডিসেম্বর টাঙ্গাইল করোটিয়ার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। তিনি সেই সৌভাগ্যবান অভিনেত্রী যিনি বৃটিশ ভারত পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের শাসন দেখেছেন। বয়সের অঙ্কে ৯০ বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এ গুণিজন আজও সাবলীল প্রাত্যহিক জীবনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। মাঝে মাঝে অতীতের স্মৃতিচারণে ডুবে থাকেন। ১৯৬২ সালে বেতারের নেপথ্য শিল্পী হিসেবে সংস্কৃতি জগতে তার পথচলা শুরু। অভিনেত্রী হিসেবে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক ১৯৬৮ সালে উর্দু সিনেমা ‘জাহা বাজে শেহনাই’ এর মাধ্যমে। বেতারের গ্রামীণ সচেতনামূলক অনুষ্ঠানে তিনি ‘শায়লা বু’ চরিত্রে অভিনয় করে সমগ্র বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

বেতার টেলিভিশন মঞ্চ এবং সিনেমা সব মাধ্যমেই তার অভিনয় দর্শকদের হৃদয় ছুয়ে গিয়েছে। তার অভিনীত অনেক সিনেমার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘গেরিলা’ প্রমুখ। এই গুণী অভিনেত্রী সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন ‘শিখণ্ডীর কথা’ সিনেমায়। শারীরিক অসুবিধার জন্য দীর্ঘদিন তিনি অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। এ বিষয়ে মিরানা জামান বলেন, অভিযোগ কিংবা মান অভিমান থেকে বলছি না, আমাদের মতো পুরনো শিল্পীদের খোঁজ কেউ নেয় না। অবশ্য আমাদের সমসাময়িক অনেক সহশিল্পী আজ বেঁচে নেই। আমি আবারো আপনাদের সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি, আমার জন্য দোয়া করবেন যতদিনই পৃথিবীতে বেঁচে থাকি যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকি। দোয়া চাই শেষ বিদায়টা যেন সুন্দর হয়।