ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে চতুর্থ দিনেও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করেছে। আশুলিয়া ও গাজীপুরে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেড় শতাধিক পোশাক কারখানা। গাজীপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য সহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আশুলিয়ায় গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আশুলিয়া ও সাভারে মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গাজীপুরে আটক করা হয়েছে অন্তত আটজনকে।
গতকাল রাজধানীর মিরপুরে টানা তৃতীয় দিনের মতো পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধর করেন পোশাক শ্রমিকরা। পরে আহত পুলিশ সদস্য মো. সাইমুনকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৩৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১১ মেট্রোস্টেশনের নিচে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবীর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক বিভিন্ন গার্মেন্টের সামনে লাঠিসোটা নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের পশ্চিম পাশে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেয়। অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বর, নান্না মার্কেট এলাকার বিভিন্ন গলি ও মিরপুর-১২ নম্বরের দিক থেকে দলে দলে শ্রমিকরা এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। একপর্যায়ে তারা তিনদিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় শ্রমিকেরা সড়কে বেঞ্চসহ কাঠ জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এদিন সকাল থেকেই পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন অলিগলিতে টহল দেন এবং মাইকিং করে আন্দোলনকারীদের সড়কে অবস্থান না নেয়ার আহ্বান জানান। সংঘর্ষে বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে মো. সাইমন নামে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করে দুর্বৃত্তরা।
এক ঘণ্টা দুই মেট্রোস্টেশন বন্ধ: এদিকে সংঘর্ষে পরিস্থিতি বিবেচনায় বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মিরপুর-১০ এবং মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দেয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি (ডিএমটিসিএল)। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবার মেট্রোস্টেশন খুলে দেয়া হয়।
পিওএম দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তৌহিদুল আরিফ বলেন, আজ (গতকাল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় কিছু দুষ্কৃতকারী রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সমস্যা তৈরির চেষ্টা করেছিল। আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে তা দমন করেছি। আমরা আরও কঠোর হচ্ছি; কারণ এখন রাস্তায় যারা আছে, তারা কোনো অর্থেই প্রকৃত গার্মেন্টস কর্মী বা শ্রমিক নয়। তারা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নামা দুষ্কৃতকারী। ডিসি তৌহিদুল আরিফ আরও জানান, প্রকৃত পোশাক শ্রমিকরা ছুটি হলে বা কাজের শেষে যার যার মতো বাড়ি চলে গেছেন এবং অনেকে কারখানায় কাজ করছেন।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকরা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সদস্য বলে আমরা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছি। তিনি আরও বলেন, মিরপুর ১১ থেকে যখন শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়, তখন তারা কালশীর দিকে সরে যায়। সেই সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা মিরপুর-১১ এর দিকে আসছিল। দলছুট অবস্থায় পেয়ে একজনের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত পুলিশ সদস্য মো. সাইমুন বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মিরপুরে একা পেয়ে পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধর
রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের মধ্যে একা পেয়ে এক পুলিশ সদস্যকে সড়কে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি সুপারশপের সামনে মো. সাইমন নামে ওই পুলিশ সদস্যকে সড়কে ফেলে বেধড়ক মারধর করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ জানায়, ওই পুলিশ সদস্য পল্লবী থানা থেকে মিরপুর ১১-এর দিকে যাচ্ছিলেন। একা পেয়ে একদল দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন কয়েকজন। কয়েকজন আবার হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে মিরপুর-১২ নম্বরে একটি সড়কে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তারা আন্দোলনকারীদের মাঝখানে পড়ে যান। এসময় আন্দোলনকারীরা চারদিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে পুলিশ সদস্যরা সরে গিয়ে আশপাশে অবস্থান নেন। তবে একজন পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের মাঝে পড়ে যান। এ সময় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একদল দুর্বৃত্ত তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তারা ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয় বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, মিরপুর ১১ থেকে যখন শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়, তখন তারা কালশীর দিকে সরে যায়। সেই সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা মিরপুর ১১-এর দিকে আসছিল। দলছুট অবস্থায় পেয়ে একজনের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত পুলিশ সদস্য মো. সাইমুন বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আশুলিয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, শতাধিক কারখানায় ছুটি: এদিন টানা চতুর্থ দিনের মতো উত্তপ্ত ছিল সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলেও আন্দোলন থেকে সরে আসছেন না পোশাক শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর ও ইউনিক এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শ্রমিকরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে বেলা ৩টা পর্যন্ত অন্তত শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধের চেষ্টা করেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সকাল ১০টার দিকে ইউনিক এলাকায় আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে নিশ্চিন্তপুর এলাকাতেও শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকার একটি গলিতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মঙ্গলবার বেলা ৩টা পর্যন্ত শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। সাধারণ শ্রমিকেরা কাজে থাকতে চান। কিন্তু বহিরাগত কিছু লোকের ইন্ধনে একটি পক্ষ প্রতিদিন সকালে কাজে যোগ দিতে আসা শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে কারখানা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গত সোমবার আহত হন প্রায় ২০ জন। মঙ্গলবার একজন পুলিশ সদস্যের মাথায় ইটের আঘাত লেগেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে চলমান এ বিক্ষোভের সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের বিষয় প্রক্রিয়াধীন। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সাভার মডেল থানায় ৯ জনকে ও আশুলিয়া থানা পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে ।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, সাভারে সোমবার দিবাগত রাতে তেঁতুলঝোড়া এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নাশকতার মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধে ইতিমধ্যে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ বলেন, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গতকাল দিবাগত রাতে আশুলিয়া থানায় দু’টি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক কারখানা ছুটি: এদিকে গতকালও গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনা আটক হয়েছে অন্তত আটজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে নিক্ষেপ করে পুলিশ। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি’র ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে জেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কিছুসংখ্যক শ্রমিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড ছুড়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ ছাড়া কোনাবাড়ী, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকার কয়েকটি কারখানা শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
একইদিন নগরের নাওজোর ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের কারণে সকালে থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মহানগরের নাওজোড় এলাকায় শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়াল সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোটা নিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচলে বাধা দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ করেন। শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এর জবাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
অন্যদিকে, নগরীর ভোগড়া এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা টায়ার জ্বালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা বাইপাস মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মহানগর বিএনপি’র সভাপতি শওকত হোসেন সরকারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় এবং আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি আমজাদ হোসাইন জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শ্রমিক নন, এমন আটজন নাশকতাকারীকে ভোগড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে ভোগড়া, নাওজোড়, কোনাবাড়ী, পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকার অর্ধশতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে গার্মেন্ট শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে শ্রমিক, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে জালকুঁড়ি এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। এদিন বেলা সোয়া ৩টার দিকে মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেটে জড়ো হয় শ্রমিকরা। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করে অন্য শ্রমিকরা। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে লিংক রোড অবরোধ করে। এ সময়ে সড়কের দুই পাশে আটকে পড়ে অনেক যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়ে শত শত যাত্রী সাধারণ। পরে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরে যাওয়ার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের পর সংঘর্ষে অংশ নেয়া শ্রমিকরাও পিছু হটে। এরপর সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল করছে।
