তাহিরপুরে ইউপি সদস্যের প্রতারণা

তাহিরপুরে ইউপি সদস্যের প্রতারণা

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে থানা থেকে স্বামীকে ছাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির স্ত্রীর কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যে জামাল মিয়া উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং রজনী লাইন গ্রামের রেনু মিয়ার ছেলে। গত রোববার দুপুরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী মো. আছাহাব মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামের বাসিন্দা। জানা যায়, গত ২৬শে অক্টোবর বড়ছড়া গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আছাহাবকে চার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাহিরপুর থানার অধীন টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরেফিনের কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন। কারাভোগ শেষে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর কাছে তিনি জানতে পারেন, তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে জামাল ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, স্ত্রীর কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত চাইলে ইজামাল নানা টালবাহানা শুরু করেন। এমনকি উল্টো আরও টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে আবারও পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী বলেন, আমি গরিব ও প্রতিবন্ধী মানুষ। বারবার টাকা ফেরত চাইছি। না হয় থানার কাকে টাকা দিয়েছেন, তা জানাতে বলছি। কিন্তু তিনি থানায় যাবেন বলে সময়ক্ষেপণ করছেন। এখন উল্টো আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য বলেন, এ সময়ে তার আপন ভাই আমার সঙ্গে ছিল। যেখানে যা দেয়ার প্রয়োজন, সেখানে সে দিয়েছে। ইউপি সদস্য হিসেবে আমি তাকে শুধু সহযোগিতা করেছি। আমি তার স্ত্রীর কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নিইনি। টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরেফিন বলেন, আমি ছুটিতে ঢাকায় আছি। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে বিষয়টি খোঁজখবর নেবো। ঘটনা সত্য হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপা মনি দেবী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।