চাকরির প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, শিক্ষক কারাগারে

চাকরির প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, শিক্ষক কারাগারে

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিদ্যালয়ে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কাটাখালী উমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফাজ উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গত রোববার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের কাটাখালী উমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফাজ উদ্দিন বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্যাডে স্বাক্ষর করে আরিফা সুলতানা নামের এক নারীকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরি দেয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। এজন্য তার কাছ থেকে নগদ ৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেন তিনি। লিখিত অঙ্গীকারনামায় তিন মাসের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ থাকলেও দীর্ঘ সময়েও চাকরি দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ রয়েছে, চাকরি না দিয়ে প্রধান শিক্ষক নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে ভুক্তভোগী আরিফা সুলতানা ও তার স্বামী আবুল হোসেন একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেয়া হয়নি। এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। একপর্যায়ে প্রতিকার না পেয়ে আরিফা সুলতানার স্বামী আবুল হোসেন বাদী হয়ে গত বছরের ২৮শে ডিসেম্বর আদালতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চুক্তিভঙ্গ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় প্রধান শিক্ষক আফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। মামলার পর রোববার প্রধান শিক্ষক আফাজ উদ্দিন আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।