কালীগঞ্জে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ

ফন্ট সাইজ:

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে উন্নয়ন প্রকল্পের (উই কেয়ার ফেজ-১, ঘ-৭) কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মানববন্ধন ও কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একই প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেয়া হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এ বিষয়ে তারা ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো কার্যকর জবাব পাননি। তারা জানান, গত ২৬শে সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা দেয়া হয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের তালিকাভুক্ত করা, ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন অনুযায়ী বর্তমান বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্থাপনা অপসারণ বন্ধ রাখা, যশোরের মতো ঝিনাইদহ অংশের ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতিপূরণ দেয়া, বরাদ্দের অর্থ নিয়ে অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্ত এবং অধিগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা। পাশাপাশি ২০শে আগস্ট ২০২৬ সালের উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবিও জানান তারা। আন্দোলনকারীদের দাবি, নির্ধারিত সময় পার হলেও তাদের কোনো দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ নোটিশ না দিয়ে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়ারও অভিযোগ করেন তারা। তারা বলেন, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা অপসারণ করতে দেয়া হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে কালীগঞ্জে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করার আহ্বান জানান তারা।

আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলে বলেন, একই প্রকল্পের যশোর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ পেলে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ীরা কেন বঞ্চিত থাকবেন? অবিলম্বে তাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন। তার আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।