প্রকৌশলীর দায়সারা তদারকিতে চলছে রায়পুর সড়কের কাজ

প্রকৌশলীর দায়সারা তদারকিতে চলছে রায়পুর সড়কের কাজ

ফন্ট সাইজ:

প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পাথর ও পিচের পরিবর্তে ইটের কনা দিয়ে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নামমাত্র সংস্কার করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ রামগঞ্জ কার্যালয়। এতে সড়ক সংস্কারে নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন ও নির্মাণমান অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কাজের মান-যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট রামগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফ মাহমুদের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই চিত্র দেখা গেছে, বাগবাড়ী-রামগঞ্জ মহাসড়কে। রামগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফ মাহমুদের কমিশন বাণিজ্যের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের মান টেকসই হচ্ছে না। প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ করায় সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। এতে পকেট ভারী হচ্ছে কর্তাবাবুদের।

সরজমিন দেখা গেছে, খানাখন্দে ভরে গেছে, লক্ষ্মীপুর-ঢাকা-বরিশাল ও চাঁদপুর মহাসড়কের রায়পুর উপজেলা অংশ। মহাসড়কের কোথাও কোথাও পিচ-পাথর টিলার মতো উঁচু হয়ে আছে। কোথাও সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। যা দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি ব্যস্ততম রায়পুর-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক। দীর্ঘ বছর ধরে সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। সড়কে ধুলাবালির কারণে জনজীবন দুর্বিষহ। পানি ছিটানোর জন্য বাজেট থাকলেও তা পকেটেই সীমাবদ্ধ। সড়কে প্রতিদিন তিনবার ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণের জন্য পানি ছিটানোর কথা থাকলেও তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। চাঁদপুর বর্ডার বাজার থেকে সদর উপজেলা দালাল বাজার সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের অসংখ্য স্থানে ছোট-বড় গর্তের চিত্র। স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কটি মেরামতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাজের নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন ও নির্মাণমান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মেরামতকাজে ব্যবহৃত উপকরণ, পদ্ধতি ও গুণগত মান যাচাইয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের তদারকি কতোটা কার্যকর, তা নিয়েও সমালোচনা।

স্থানীয় বর্ডার বাজার এলাকার সচেতন মহলের দাবি, সাময়িক জোড়াতালি দিয়ে সড়ক মেরামতের পরিবর্তে নির্ধারিত কারিগরি মান বজায় রেখে টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কাজের মান পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে রায়পুর ও রামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফ মাহমুদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।