রাজশাহীর চারঘাটে রাতের আঁধারে কেটে নেয়া হচ্ছে সরকারি গাছ। গ্রামীণ সড়কের পাশাপাশি পদ্মা-বড়াল নদীর তীর রক্ষা বাঁধের গাছও কাটছে সংঘবদ্ধ চক্র। গত দুই বছরে অন্তত পাঁচ হাজার গাছ কাটার অভিযোগ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। অথচ এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ করেনি। এদিকে উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পাঁচ বছর ধরে নিজ উপজেলায় কর্মরত থাকায় গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে চেইনসো দিয়ে গাছ কেটে মিনি ট্রাক ও ভ্যানে করে বিভিন্ন করাতকলে নেয়া হয়। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চারঘাটে ৩৮টি করাতকলের মধ্যে মাত্র ১৩টির অনুমোদন রয়েছে। বাকি ২৫টি অনুমোদন ছাড়াই চলছে। সরজমিন পদ্মা-বড়াল নদীর মোহনায় গাছের গুঁড়ি ও যানবাহনের চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁকড়া বাজার-রায়পুর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর ভূমিকা নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) চারঘাট উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সনি আজাদ বলেন, বনবিভাগের অবহেলা ও স্বজনপ্রীতির কারণে সরকারি গাছ কাটা বন্ধ হচ্ছে না। এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, সড়কের পাশের অধিকাংশ গাছ বনবিভাগের। এলজিইডি’র কিছু গাছ রয়েছে, সেগুলোর খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে মামলা করা হবে। স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সঠিক নয়। দাপ্তরিক কাজে তাকে প্রায়ই অফিসের বাইরে থাকতে হয়।
