বাবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার এক মাস পরও সন্ধান মেলেনি ১২ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান ইমনের। ঘটনার দিন ২৮শে সেপ্টেম্বর রাতে ফেনী শহরতলীর ফতেহপুর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ, তবে পাওয়া যায়নি ব্যাটারিগুলো। ইমনের ভাই মোশারফ দাবি করেন, ঘটনার দিন তাদের চাচাতো ভাই মো. হানিফের (১২) সঙ্গে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল ইমন।
ওইদিন সন্ধ্যায় হানিফের প্রাইভেট থাকায় তাকে বিরিঞ্চি ফকির বাড়ির সামনের এলাকায় রিকশা থেকে নামিয়ে দেয় ইমন। তখন সে (ইমন) হানিফকে তার রিকশার ব্যাটারিতে তেমন চার্জ নেই বলে জানিয়ে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি ফেরার কথা জানায়। ফেনী মডেল থানা সূত্র জানায়, ইমনের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো অপহরণ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, কিংবা তাকে অন্য কোনো জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ফেনী পৌরসভার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজেও ইমনের উপস্থিতি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সেখান থেকেও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। ইমন ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিরিঞ্চি এলাকার ফকির বাড়ির বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম সুজনের ছেলে। সে স্থানীয় বিরিঞ্চি সুফিয়া নূরিয়া আলিম মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮শে সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফেরে ইমন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন ২৯শে সেপ্টেম্বর সকালে ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।
ইমনের বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক ফেনী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ বা প্রশাসন তার কোনো হদিস দিতে পারেনি। এ বিষয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, পুলিশ কাজ করছে। তার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তাও জানতে পুলিশ তৎপর।
