তারাকান্দায় টিসিবি’র ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় টিসিবি’র ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ডিলার নিয়োগের স্পষ্ট নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কাগজপত্রে অস্তিত্বহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠান এবং ভিন্ন ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি টিসিবি’র ডিলারদের প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, তালিকাভুক্ত ১০০ নম্বর ক্রমিকের শামীম এন্টারপ্রাইজ (প্রো. শামীম মিঞা, ঢাকুয়া, তারাকান্দা) এবং ১০৯ নম্বর ক্রমিকের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ (প্রো. রুবেল মিঞা, রামপুর, তারাকান্দা)-এর নামে ডিলারশিপ অনুমোদন দেয়া হয়।

তবে উপজেলার ঢাকুয়া ও রামপুর ইউনিয়নে সরজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিষ্ঠান দু’টির কোনো দৃশ্যমান কার্যালয়, দোকান, সাইনবোর্ড কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সরজমিন ঘুরে জানা যায়, রামপুর ইউনিয়নের ডিলারশিপপ্রাপ্ত রুবেল মিঞা মূলত রামপুর ইউনিয়নের স্থায়ী অধিবাসীই নন; তার স্থায়ী বাসস্থান একই উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নে। অন্যদিকে, রামপুর ইউনিয়নের স্থায়ী অধিবাসী যারা নীতিমালার সকল শর্ত পূরণ করে বৈধভাবে আবেদন করেছিলেন এবং যাদের আবেদনপত্র উপজেলা প্রশাসনের সরজমিন তদন্ত শেষে সুপারিশসহ জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ বরাবর পাঠানো হয়েছিল— তাদের রহস্যজনকভাবে বাদ দেয়া হয়েছে। নীতিমালার সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও যোগ্য আবেদনকারীদের বঞ্চিত করে বহিরাগত ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপ মঞ্জুর করায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকুয়া ইউনিয়নের ডিলারশিপপ্রাপ্ত শামীম মিয়া মূলত উকিলের মুহুরী হিসেবে কাজ করেন। সরজমিন অনুসন্ধানে তার নিজস্ব কোনো দোকানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় হরিয়াগাই বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তদন্তের সময় শামীম অন্য একজনের দোকান নিজের দোকান হিসেবে দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, নিজস্ব দোকান থাকা এবং নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার পরও যোগ্য অনেক আবেদনকারী ডিলারশিপ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বিতর্কিত ও নীতিবহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এসব বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। অপরদিকে, সরজমিন তদন্তের দায়িত্বে থাকা উপজেলা কেন্দ্রিক কর্মকর্তাদের নিকট এই বিতর্কিত ও অসত্য তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তারা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন। সাংবাদিকরা প্রতিবেদনটির স্বচ্ছতা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে কর্মকর্তারা ব্যস্ততা দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।