আলাভেসকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফ্লিকের ইতিহাস

আলাভেসকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফ্লিকের ইতিহাস

ফন্ট সাইজ:

প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে টানা দুই হারের হতাশা ভুলে ঘরের মাঠে যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লো বার্সেলোনা। দেপোর্তিভো আলাভেসকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করলো হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। এই দুর্দান্ত জয়ের দিন বার্সার ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন এই জার্মান কোচ।

কাতালান ক্লাবটির ডাগআউটে এটি ছিল ফ্লিকের ১০০তম জয়। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ক্লাবের দায়িত্ব নেয়ার পর ১০০টি জয় পেতে তিনি ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১৩১টি, যার জয়ের হার অবিশ্বাস্য—৭৬.৩৩ শতাংশ। বার্সার দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কোনো কোচেরই এত উচ্চ জয়ের শতকরা হার ছিল না। রেকর্ডটি নিজের করে নেয়ার পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন পেপ গার্দিওলা ও ইয়োহান ক্রুইফের মতো কিংবদন্তিদের। তবে সবচেয়ে কম ১২৬ ম্যাচে ১০০ জয়ের দ্রুততম রেকর্ডটি এখনো ধরে রেখেছেন লুইস এনরিকে। সেই তালিকায় এখন দুইয়ে অবস্থান করছেন ফ্লিক।

স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে এই ঐতিহাসিক জয় উদ্‌যাপনে আলো ছড়ান রাফিনহা ও লামিন ইয়ামাল। দুজনই করেন জোড়া গোল। ম্যাচের ৮ম মিনিটে পেদ্রি ও ফেরমিন লোপেসের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা রাফিনহা। ২৩ মিনিটে লোপেস নিজেই ব্যবধান ২-০ করেন। প্রথমার্ধের বিরতির আগেই রাফিনহা নিজের ১৫তম লীগ গোল পূর্ণ করেন এবং যোগ করা সময়ে ইয়ামাল নিচু শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের পাস থেকে ইয়ামাল পান নিজের দ্বিতীয় গোল। এরপর আরেক বদলি ফুটবলার অ্যান্থনি গর্ডন চিপ শটে দলের ৬ নম্বর গোলটি পূর্ণ করেন। শেষ মুহূর্তে মারিয়ানো দিয়াজ আলাভেসের হয়ে একটি সান্ত্বনাসূচক গোল শোধ করেন।

ম্যাচ শেষে বার্সা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ফ্লিক। ক্লাবে আসার পর ইতোমধ্যে দুটি লা লিগা, দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ ও একটি কোপা দেল রে উপহার দেয়া ফ্লিকের আক্রমণাত্মক দর্শন ও তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার মানসিকতাই বার্সাকে আবার বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।