মিরপুর সিরিজের প্রথম টেস্টে আট উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। টাইগার ব্যাটসম্যানদের ভুলে ভরা ব্যাটিংয়ে চারদিনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরেছে এ ম্যাচ। প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতাও চোখে পড়ার মতো। মূলত প্রথম ইনিংসেই ম্যাচটি হাতছাড়া করে ফেলে নাজমুল হোসেন শান্তরা। এই হারের কারণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা এখন বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। বলার অপেক্ষা রাখে না অস্ট্রেলিয়া এক টেস্ট হারিয়ে যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ তা পুড়তে শুরু করেছে নিজেদের বাজে ব্যাটিংয়ে। গতকাল সকালে বাংলাদেশ ছয় উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে খেলতে নামে। দিনের প্রথম ওভারেই জাকের আলী আউট হন। ২২ রানে স্লিপে ক্যাচ দেন। হাসান মাহমুদ আট রান করে এলবিডব্লিউ হন। তাইজুল ইসলাম আট রান করে আউট হন। বোলার নাঈম হাসান ৫২ রান করে ব্যাটারদের চোখে দেখিয়েছেন টেস্টে কীভাবে ব্যাট করতে হয়। নাঈমের ক্যারিয়ারের এটি প্রথম ফিফটি। আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ইনিংস ১৪২ রানে শেষ হয়। জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য পায় ক্যারিবীয়রা। যা তাড়া করে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হারের অন্যতম কারণ ব্যাটসম্যানদের শট নির্বাচনের ভুল। উইকেটে টিকে থাকার বদলে ব্যাটসম্যানরা আউট হয়েছেন বাজে শটে। উইন্ডিজ প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এক ধাপ এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকাতে বাংলাদেশের এক ধাপ পতন হয়েছে। ক্যারিবীয়দের জয়ে বাংলাদেশকে পিছনে ফেলে চারে উঠে এসেছে ভারত।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম সারির ব্যাটাররা রান করতে ব্যর্থ হন। ক্যারিবীয় স্পিনারদের বল ঠিকমতো বুঝতে না পেরে উইকেট হারান তারা। বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ ও বোল্ড হয়েছেন ব্যাটাররা। রস্টন চেইস ও জোমেল ওয়ারিক্যানের স্পিনে তারা খেই হারান। ক্রিজে টিকে থাকার কোনো চেষ্টা দেখা যায়নি। শট খেলে ক্যাচ তুলে দেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। টেস্ট মেজাজে ব্যাট করার বদলে দ্রুত রান তোলার তাড়া দেখা গেছে। এ কারণেই ৭৯ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে দল চাপে পড়ে। শেষ দিকের ব্যাটাররা রান করলেও প্রথম সারির ব্যাটারদের এই ভুল শট হারের কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই হারের ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেল। ফাইনালে খেলতে হলে ঘরের মাঠে এই ম্যাচে জয় পাওয়া প্রয়োজন ছিল। পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ দুইয়ে ওঠার পথ এখন হিসাব-নিকাশের ওপর নির্ভরশীল। সিলেট টেস্টে হারলে ফাইনালের আশা শেষ হয়ে যাবে। সামনের সিরিজগুলোতে দলকে দেশের বাইরে ম্যাচ খেলতে হবে। প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে জয় তুলে আনা সহজ নয়।
অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর যে আশা তৈরি হয়েছিল, মিরপুরের হার তাতে আঘাত হেনেছে। এখন দলের সামনে প্রতিটি ম্যাচ জেতা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বোলাররা উইকেট পেলেও ব্যাটারদের রান করেতে ব্যর্থ যে কারণে পরের ম্যাচ গুলোতে জয় তুলে সমীকরণ মেলাতে হলে দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটারদের। অন্যদিকে উইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিংয়ে আসেন। জন ক্যাম্পবেলের বিপক্ষে তিনবার এলবিডব্লিউ আবেদন হয়। আম্পায়ার নিতিন মেনন তিনবারই নটআউট দেন। রিভিউ নেওয়ার পরও ক্যাম্পবেল রক্ষা পান। বিরতির পর ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং রান বাড়াতে থাকেন। কিং শরিফুল ইসলামের ওভারে তিনটি চার মারেন। শান্ত দ্বিতীয় স্লিপে কিংয়ের ক্যাচ ছাড়েন। আঙুলে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে যান। কিং চার মেরে টেস্ট ইনিংসে ফিফটি পূর্ণ করেন। স্পিনাররা লাইন ও লেংথ বজায় রাখতে পারেননি। সেই সুবিধা নিয়ে ক্যারিবীয় ওপেনাররা ১১২ রান যোগ করেন। অবশেষে শরিফুল বল করতে এসে ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করেন। ৪৯ রান করে আউট হন। তেজনারাইন চান্দারপল ব্যাট করতে নামেন। এরপর হাসান চান্দারপলকে আউট করেন। এক রান করে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন তিনি।
তার বিদায়ের পর কাভেম হজ কিংয়ের সাথে যোগ দেন। এবার ইবাদত হোসেন লং অফে কিংয়ের ক্যাচ ছাড়েন। তখন ৭১ রানে ব্যাট করছিলেন। হজ তাইজুলের বলে চার ও ছক্কা মারেন। ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন। কিং ১১৫ বল খেলে ৮১ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ইনিংসে দশটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। উইন্ডিজ ৩৫.১ ওভারে দুই উইকেটে ১৭০ রান করে। সেখানে স্পিনাররা কোন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তাইজুল ৫৪ ও মিরাজ ২৬ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন। অন্যদিকে নয়টি উইকেট পেয়ে ওয়ারিক্যান ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন। চেইস দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন। টেস্ট ক্রিকেটে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ ও উইন্ডিজ ২৪৫ রান করে। বৃষ্টির কারণে চতুর্থ দিনেও খেলা বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সিলেট মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে।
