ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে রানার্সআপ বাংলাদেশ

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে রানার্সআপ বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভাল এর ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল। সুযোগ ছিল শিরোপা জেতারও। তবে ফাইনালে আর পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গতকাল আজারবাইজানের বাকুতে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে ৪-১ গোলে হেরে টায়ার ‘ই’ এর রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ।
ফাইনালে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। ১৪ মিনিটে মোইর গোলে এগিয়ে যায় তারা। চার মিনিট পর পেনেলের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ২৩তম মিনিটে এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান তাকিব। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিন মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিককে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মোই। ৩৯তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তাতে প্রথমার্ধেই ৪-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশের কিশোরেরা।

ফিফার আয়োজনে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ১৮৯টি দেশ। মোট ৩২টি গ্রুপে ভাগ করে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলা হয়। যেখানে প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে ৪ থেকে ৫টি করে ম্যাচ খেলেছে। এরপর অবস্থানের ভিত্তিতে দলগুলোকে ৬টি পারফরম্যান্স টায়ারে ভাগ করা হয়। ৩২টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা লড়ছে মূল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য (১ম থেকে ৩২তম স্থান)। গ্রুপ রানার্সআপ দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে টায়ার ‘বি’তে (৩৩তম থেকে ৬৪তম স্থান)। গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলো খেলছে টায়ার ‘সি’তে (৬৫তম থেকে ৯৬তম স্থান)। চতুর্থ হওয়া দলগুলোর স্তর টায়ার ‘ডি’ (৯৭তম থেকে ১২৮তম স্থান)। বাংলাদেশসহ গ্রুপে পঞ্চম হওয়া দলগুলো লড়ছে টায়ার ‘ই’তে (১২৯তম থেকে ১৬০তম স্থান)। গ্রুপে ষষ্ঠ হওয়া দলগুলো খেলছে টায়ার এফে (১৬১তম থেকে ১৮৯তম স্থান)। বাছাইপর্বে ‘জি’ গ্রুপে ছয় দলের মধ্যে পঞ্চম হয়ে টায়ার ‘ই’-তে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। ওয়েলসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে বাছাইপর্ব শুরু করা বাংলাদেশ পর্তুগালের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে যায়। এরপর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর বুরুন্ডির সঙ্গে ২-০ গোলে জয় পান বায়েজিদরা।

এরপর ৩২ দলের নকআউট পর্বে সেশেলসকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে বাংলাদেশ। পরের রাউন্ডে সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারায় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট। ফাইনালে ওঠার সুবাদে সামগ্রিকভাবে ১৩০তম স্থান অর্জন করে লাল-সবুজ কিশোররা। ফুটবলের বৈশ্বিক উন্নয়ন ও উদীয়মান প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্মোচিত করতে প্রথমবারের মতো এই আসরের আয়োজন করেছে ফিফা।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদনের পর ২৪ থেকে ৩০শে অক্টোবর আজারবাইজানের বাকুতে ৩ হাজারের বেশি ফুটবলার ও কর্মকর্তার অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফিফার ১৮৯টি সদস্য দেশ অংশ নেয়। অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বিকাশের লক্ষ্যে ছোট মাঠ ও ২০ মিনিটের দুই অর্ধে এইট এ সাইট ফরম্যাটে প্রায় ১ হাজার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৭ সালে মেয়েদের এবং ২০২৮ সাল থেকে ছেলে-মেয়ে উভয় বিভাগের অংশগ্রহণে এটি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে।