শিশুদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ: ডিএনসিসি প্রশাসক

ফন্ট সাইজ:

শিশুদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, নাচ-গান ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা জরুরি। শিশুদের উদ্দেশ্যে এমন আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকেই একদিন দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র, প্রশাসক ও যোগ্য সাংবাদিক তৈরি হবে। তাই শৈশব থেকেই শিক্ষা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এসব কথা বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকার ভবিষ্যৎ শিশুদের হাতে। দেশকে ভালো রাখতে হলে তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হবে। মিথ্যা বলা ও অপরাধমূলক কাজ থেকে দূরে থেকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
ডিআরইউ’র ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সময়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে বর্তমান জায়গাটি দেয়া হয়েছিল। ভবন নির্মাণে কোনো আইনি জটিলতা থাকলে তা নিরসনে সহযোগিতা করা হবে। শিশুদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত ব্যায়াম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে হাত-নখ ও ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে। ছাদ, ফুলের টব কিংবা ফ্রিজের নিচে পানি জমতে দেয়া যাবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অঙাইড শোষণ করে অঙিজেন সরবরাহ করে। তাই অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিশুদের পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দুধ, ডিম ও শাকসবজির মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাংবাদিক পরিবারের সন্তানদের উদ্দেশ্যে আব্দুস সালাম বলেন, তাদের বাবা-মায়েরা সমাজের সত্য ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধেও গান ও সংবাদ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাই বাবা-মায়ের পেশাকে সম্মান জানিয়ে তাদের নিয়ে গর্ববোধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, সদস্যদের সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতি বছর এ সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়। আগামীতে শিশু-কিশোরদের এ আয়োজন তিনদিনব্যাপী করার প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে ডিআরইউ’র অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ করে জমিসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে প্রধান অতিথির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন- অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম।

দিনব্যাপী এ উৎসবে ডিআরইউ সদস্যদের সন্তানদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে ডিআরইউ প্রাঙ্গণ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি মো. আব্দুস সালাম।
সাংস্কৃতিক উৎসবের সংগীত বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ইয়াসমিন মুশতারী, খায়রুল ওয়াসি ও দেবলীনা সুর। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন মলয় বালা, অমিত নন্দী ও ঝোটন চন্দ্র রায়। আবৃত্তি বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শিমুল মুস্তাফা, নায়লা তারাননুম চৌধুরী ও মুনা চৌধুরী।
শিশু-কিশোরদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশ, সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহ প্রদান এবং সাংবাদিক পরিবারের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য জোরদার করার লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করে ডিআরইউ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলো-

চিত্রাঙ্কন: ‘ক’ বিভাগে প্রথম কাজী আনালিয়া মুস্তাফিজ, দ্বিতীয় মিকদাদ বিন সাইফ ও তৃতীয় আরীন আমিরা। ‘খ’ বিভাগে প্রথম আনিকা আনজুম, দ্বিতীয় হোসেন রাজভীন রাউনাফ ও তৃতীয় আরিয়ান রহমান। ‘গ’ বিভাগে প্রথম রাদিতা জাহান নুভা, দ্বিতীয় অদ্বিতীয়া পুন্যি ও তৃতীয় আয়নুন নাহার আকসা।
আবৃত্তি: ‘ক’ বিভাগে প্রথম আমিরা জাহান অর্থি, দ্বিতীয় ফারিন তারান্নুম ও তৃতীয় সেহরিশ জামান। ‘খ’ বিভাগে প্রথম তাহসিন হক আনিকা, দ্বিতীয় সানদিহা জাহান দিবা ও তৃতীয় আম্মার সামি। ‘গ’ বিভাগে প্রথম রাদিতা জাহান নুভা, দ্বিতীয় জেরিন ফেরদৌস পঙক্তি ও তৃতীয় মারজুকাহ জয়নব।

সংগীত: ‘ক’ বিভাগে প্রথম মুয়ান্তিরা রহমান সানাইয়া, দ্বিতীয় শুদ্ধতা আজম ভোর ও তৃতীয় আমিরা জাহান অর্থী। ‘খ’ বিভাগে প্রথম সানদিহা জাহান দিবা, দ্বিতীয় অরুন্ধতী কর গল্প ও তৃতীয় হোসেন রাজভীন রাউনাফ। ‘গ’ বিভাগে প্রথম তাহসিনা কবির এলিশা, দ্বিতীয় রাদিতা জাহান নুভা ও তৃতীয় শেখ তাজকিয়া হিমাদ্রী।