পুলিশ কর্তাদের সম্পদে চোখ গোয়েন্দাদের। দেশ রূপান্তরের শিরোনাম। এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে ডিবির অভিযান ঘিরে এখনো চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। রাজধানীর পূর্বাচলে একটি প্রজেক্টে পুলিশ কর্মকর্তাদের একাধিক ফ্ল্যাট তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে বিভিন্ন স্থানে জমির ব্যবসাও করছেন। কারও আছে বাড়ি ও একাধিক ফ্ল্যাট। আছে দেশের বাহিরে বিশাল অর্থ-সম্পদও। অনেকের সন্তান পড়াশোনা করছে দেশের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা উন্নত দেশে। চাকরির বেতনের সঙ্গে সহায়-সম্পদ ও জীবনযাপনের মিল না থাকায় সন্দেহভাজন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থা।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পদের পরিমাণ দেখে হতবাক হন রাষ্ট্রের কর্তা-ব্যক্তিরা। এসব তথ্য পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্য সদস্যদের সম্পদের দিকে ‘বিশেষ চোখ’ রেখেছে। এরই মধ্যে একটি তালিকার কাজ গুটিয়ে আনা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সরকারের হাইকমান্ডের সিগন্যাল এলেই তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে ব্যবস্থা। এমনকি নজরদারিতে তাদের রাখা হয়েছে ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের একটি অসাধু সিন্ডিকেটের নানা অনিয়ম নিয়ে দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। পুলিশের প্রজেক্টে আলিশান বাড়ি তৈরির পেছনে কোথায় থেকে এসেছে অর্থ তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই তালিকায় সাবেক একাধিক আইজিপিসহ বর্তমান কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তারা ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। পিআরবিসহ প্রচলিত যাবতীয় বিধি লঙ্ঘন করে পুলিশের কেউ কেউ রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পুলিশে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তার দিকেও চোখ রেখেছে দুদকসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তালিকায় যাদের নাম এসেছে, তাদের ঢাকাসহ দেশের বাহিরে ‘বিশাল সম্পদ’ রয়েছে। তাদের অনেকের সন্তান বিদেশে পড়ালেখা করছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কর্মকর্তা ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাকিয়া পারভীনের সম্পদ বিবরণী তলব করে নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের নামে প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ অক্টোবর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত প্রায় ৮৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। ফখরুদ্দীন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় পুলিশ কর্মরত আছেন। ঘটনার সময় তিনি ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখায় ছিলেন। এরই মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। একটি মামলায় হারুনকে প্রধান আসামি এবং অপর মামলায় তার ছোট ভাই চিকিৎসক ডা. এবিএম শাহরিয়ারকে প্রধান আসামি ও হারুনকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের মামলার তদন্ত ও বিচার চলমান রয়েছে। সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হকের অবৈধ সম্পদের নথিপত্র ও প্রমাণাদি লুকানোর চেষ্টার ঘটনায় দুদক অভিযান চালিয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে পুলিশের এসআই হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এই রকম একাধিক অভিযোগ উঠেছে পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে।
যেসব অভিযোগ নিয়ে হচ্ছে তদন্ত : পুলিশের সম্পদ নিয়ে এবার নজরদারি করা হচ্ছে। আয়ের সাথে সম্পদের সামঞ্জস্য, জমি-ফ্ল্যাটের মালিকানা, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি নিয়ে গোপনে চলছে তদন্ত। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে কিনা, আয়ের উৎসের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের মিল আছে কি না, কিংবা সম্পদ অর্জনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আছে কিনা এসব বিষয় বেশি যাচাই করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, অবৈধ সুবিধা নেওয়া বা প্রভাব খাটিয়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলো আমলে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পূর্বাচলে পুলিশের প্রজেক্টে একজন ডিআইজির বাড়িতে অভিযান ও তল্লাশির পর সেখানে আলিশান একাধিক বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। ওইসব বাড়ি বর্তমান ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের। তাদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। এমনকি ১০ বছর আগে অবসরে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যদেরও সম্পদ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অহেতুক কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
পুলিশের কাজের ধরন বিবেচনার কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ বেশি উঠেছে। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, গ্রেপ্তার, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার আছে অভিযোগে। এ বিষয়ে দুদকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধীনস্থ কর্মকর্তা, ঘনিষ্ঠ সহকর্মী বা প্রভাবশালী কারও স্বার্থ জড়িত থাকলে, তা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও মাঝেমধ্যে প্রশ্ন আছে। আমরা সূক্ষ্মভাবে বিষয়গুলো তদন্তের চেষ্টা করছি। তদন্ত কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অভিযোগ এলেই যে তদন্ত করতে হবে, তা আইনে নেই। তবে গুরুতর অভিযোগগুলো আমলে নিতে বলা হয়েছে। কারও বৈধ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বেনামি সম্পত্তি ও আসল মালিকানা : অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি হলো সম্পদের প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ। কোনো বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজে এক ব্যক্তির নাম থাকলেও তা ক্রয়ের অর্থ কে দিয়েছেন, কে ভোগদখল করছেন এবং কে প্রকৃত আর্থিক সুবিধার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে আইনসম্মতভাবে প্রাপ্ত অর্থের উৎস, ক্রয়মূল্য পরিশোধের রেকর্ড, ঋণের নথি, অংশীদারত্বের চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সক্ষমতার তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিদেশে পড়ছে সন্তানরা : পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্তানদের বিদেশে শিক্ষাব্যয়ের বিষয়ও এসেছে সামনে। গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য এসেছে, বেশিরভাগ সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যদের সন্তানরা বিদেশে পড়ালেখা করছে। তারা বিশে^র নামি-দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের বড় একটি অংশ তাদের পরিবারের সদস্য বা নিকটবর্তী ব্যবসায়িক সহযোগীদের নামে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। গোয়েন্দারা এখন এই বেনামি মালিকানার শিকড়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের গুটিকয়েক দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যের কারণে পুরো বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
তালিকায় যেসব কর্মকর্তা : গোয়েন্দা সংস্থা ও দুদকের তালিকায় সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ; ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, খন্দকার গোলাম ফারুক, শফিকুল ইসলাম; ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ, পিবিআইর সাবেক প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ওয়াই এম বেলালুর রহমান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশীদ, সিআইডির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া, অতিরিক্ত আইজিপি দেবদাস ভট্টাচার্য্য, অতিরিক্ত আইজপি খন্দকার লুৎফুল কবীর, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক প্রধান মীর রেজাউল আলম, রংপুর রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি আবুদল বাতেন, চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির, শেখ নাজমুল আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের সাবেক কমিশনার মাহবুব আলম, রংপুর মেট্রোপলিটনের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, সাবেক ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র, ইমাম হোসেন, সিটিটিসির সাবেক প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, শাহ মিজান শফিউর রহমান, আনিসুর রহমান, মোল্যা নজরুল ইসলাম, এসএম মোস্তাক আহমেদ, জিহাদুল কবীর, মো. ইলিয়াস শরীফ, শাহ আবিদ হোসেন, মো. জামিল হাসান, সৈয়দ নূরুল ইসলাম, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হামিদুল আলম, ড. শামসুন্নাহার, শেখ রফিকুল ইসলাম, ড. একেএম ইকবাল হোসেন, বিপ্লব কুমার সরকার, মারুফ হোসেন সরদার, বিজয় বসাক, সুব্রত কুমার হালদার, আ স ম মাহতাব উদ্দিন, মোহা আহমারুজ্জামান, খন্দকার নূরুন্নবী, এসএম মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ জায়েদুল ইসলাম, প্রলয় কুমার জোয়ারদার, এসএম শফিউল্লাহ, মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, আসমা সিদ্দীকা মিলি, গোলাম মোস্তফা রাসেলসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে।
বিধান থাকলেও প্রয়োগ নেই : সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিধান রয়েছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৩ বিধিতে সম্পত্তির ঘোষণা এবং সম্পদের পরিবর্তনের বিবরণ দাখিলের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। বিধিটির প্রয়োগ ও পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা অনুসারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদের হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছিল সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে হবে। কিন্তু ওই নির্দেশ আমলে নেয়নি কেউ।
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন— সমকালের প্রধান সংবাদ।
খবরটিতে বলা হয়, ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধারের খবর গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ছিল।
গত জুলাইয়ে এক পড়কাস্টে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিও অনেকে শেয়ার করেন। তাতে তিনি ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের ভিডিওসহ নানা বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন।
এর আগে, একটি পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে তাহসিফের প্রসঙ্গ আসে। তাতে বলা হয়েছে, তিনি শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের ভিডিওটি প্রচার করেছেন। বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল, সেখানেও তাহসিফের নাম আছে।
তবে, ওই সময় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এক প্রতিবাদলিপিতে বলেছিল, বাস্তবে এ কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে। যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে, তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম গতকাল মর্গের সামনে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— দেশে চাকরির বাজার সংকুচিত, তরুণরা ঝুঁকছেন 'গিগ' জবে।
খবরে বলা হয়, ফ্রিল্যান্সিং, রাইডশেয়ারিং, খাবার সরবরাহ, অনলাইন কনটেন্ট তৈরি, ই-কমার্স ও অ্যাপভিত্তিক নানা কাজে যুক্ত হচ্ছেন দেশের অনেক উচ্চ শিক্ষিত ও বেকার তরুণ। এসব কাজ 'গিগ' জব নামে পরিচিত।
গিগ জবে কর্মীরা সাধারণত নির্দিষ্ট কাজ, প্রকল্প, অর্ডার বা সেবার ভিত্তিতে পারিশ্রমিক পান।
এসব কাজে সব সময় স্থায়ী নিয়োগের প্রয়োজন হয় না। প্রযুক্তিনির্ভর প্লাটফর্মের মাধ্যমে কর্মী ও গ্রাহকের মধ্যে সংযোগ তৈরি হওয়ায় এ কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো বিস্তৃত হয়েছে।
তবে এ খাতের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে আয় অনিশ্চয়তা, সামাজিক সুরক্ষার অভাব এবং শ্রমিকের অধিকার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
দেশের শ্রমবাজারে গত এক দশকে এক কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে ৮৭ লাখ তরুণের। বেকারদের বড় অংশ নিজেদের কর্মসংস্থান খুঁজে নিতে রাইডশেয়ারিং কিংবা ফ্রিল্যান্সিং কিংবা ফুড ডেলিভারির মতো পেশা বেছে নিয়েছে।
উচ্চ হারে বেকারত্ব, সীমিত কর্মসংস্থান এবং বাড়তি আয়ের প্রয়োজন গিগ জবের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম আলোর প্রথম পাতার শিরোনাম— এসআরবির অভিযানের সময় তরুণের মৃত্যু, গুলি করেছে কে।
এই খবরে বলা হয়, স্ত্রীকে তাড়াতাড়ি রান্না করতে বলে বলে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন মারুফ ওরফে দুখু মিয়া। কিছুক্ষণ পর খবর আসে, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মারুফ। ওই সময় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ছিলেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা। অভিযানের এক পর্যায়ে এসআরবির সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে আকাশের দিকে চারটি ফাঁকা গুলি ছুড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির কর্মকর্তারা।
অভিযানের সময় গোলাগুলি এবং এক তরুণের মৃত্যু ঘটলেও প্রাণঘাতী গুলিটি কার অস্ত্র থেকে বেরিয়েছিল, তা নিয়ে একধরনের রহস্য তৈরি হয়েছে।
নিহত তরুণের স্বজনেরা বলছেন, গোলাগুলির শব্দ শুনে বাইরে দেখতে গিয়েছিলেন মারুফ; এরপরই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তবে কারা গুলি করেছে, সেটি তারা বলতে পারছেন না। শুধু জানিয়েছে, দূর থেকে দুই পক্ষের 'ঝামেলা' দেখার সময় মারুফ গুলিবিদ্ধ হন।
তার মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।
শিক্ষায় ৬ হাজার কোটির প্রকল্প— আজকের পত্রিকার প্রধান খবর এটি।
এতে বলা হয়, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, কারিগরি ও প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এছাড়া, আইসিটি ও টেকনোলজি ল্যাব স্থাপন এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ হাজারের বেশি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে।
প্রস্তাবিত 'নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রোগ্রাম' প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ করা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নের এই বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৫৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে তিন হাজার ৩৯৭ কোটির কিছু বেশি, মাদ্রাসা ও কারিগরি স্তরে দুই হাজার ৩৭৩ কোটি এবং প্রাথমিক স্তরে ২৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পগুলো অনুমোদন পেলে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। কেননা, এ প্রকল্পের আওতায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
আর নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান শ্রেণিকক্ষ ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার করে 'সক্রিয়' শ্রেণিকক্ষে রূপান্তর করা হবে, যা এ প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিক।
যুগান্তরের শেষ পাতার একটি খবরের শিরোনাম - দেশে-বিদেশে চাহিদা মিলছে না দক্ষ চালক। এতে বলা হয়, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ চালক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে শুরু হয়েছিল ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প। মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে প্রথম সংশোধনে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫০১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এবার দ্বিতীয় সংশোধনে মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাবে ব্যয় ৫৪১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার বিষয় এসেছে। অর্থাৎ মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রস্তাবিত ব্যয় বেড়েছে ২৭৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
এছাড়া কতজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, কতজন দক্ষ চালক হয়েছেন আর কতজন বিদেশে চাকরি পেয়েছেন-এসবের হিসাবেই রয়েছে অসঙ্গতি। এরই প্রেক্ষিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রকৃত চিত্র, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন খাতের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জাপান সফরে বাংলাদেশের জন্য খুলেছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। কালের কণ্ঠের শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাঁকে বহনকারী বিমানটি প্রায় পৌনে পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যান তারেক রহমান। সফরে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনা এবং টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করেন। সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা দলিল সই হয়েছে। বাংলাদেশের দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৬.৫৬ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের (২৯.৫৫ কোটি ডলার বা প্রায় তিন হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে সই হয়েছে ১৭টি সমঝোতা স্মারক। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক লাখ কোটি ইয়েন পর্যন্ত জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সফরটি বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব সুফল পেতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নীতিগত সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ঘোষিত বিনিয়োগের অর্থায়ন, প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অপুষ্টিতে হারাচ্ছে শিশুর উচ্চতা। আগামীর সময় এর প্রতিবেদন। এতে বলা হয়, ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি হলেও দেশে শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি এখনো বেশ উদ্বেগজনক। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ২৪ শতাংশই খর্বাকায়। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির শিকার হওয়ায় প্রতি চার শিশুর একজনের উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের এ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক বা গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে (জিএইচআই) উঠে এসেছে এ চিত্র। বিশ্বের ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম। এবার বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ২, যা ক্ষুধার ‘মাঝারি’ মাত্রা নির্দেশ করে। এর আগে ২০১৮ সালে এ স্কোর ছিল ২০। গত আট বছরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে তা যথেষ্ট নয়। ২০০০ সালে এ স্কোর ছিল ৩৪ দশমিক ৬।
বিশ্ব জুড়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টির মাত্রা পরিমাপের এই আন্তর্জাতিক সূচক ২০০৬ সাল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। এতে অপুষ্টি, শিশুর খর্বাকায়ত্ব, কৃশকায়ত্ব এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার বিবেচনায় নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, ‘শিশুবিষয়ক অনেকগুলো সূচকে উন্নতি করলেও বাংলাদেশে খর্বাকায়ত্ব রোধে অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। খর্বাকায়ত্ব মূলত মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যার একটি প্রধান নির্দেশক। খর্বাকায় শিশুদের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় কম থাকে। এমনকি খর্বাকায়ত্বের কারণে বাংলাদেশ প্রতি বছর সম্ভাব্য জিডিপির ৮ শতাংশ হারাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইশতিয়াক মান্নান জানিয়েছেন, গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর জীবনের প্রথম এক হাজার দিনের মধ্যে তার পুষ্টি পরিস্থিতি নির্ধারিত হয়ে যায়। কোনো শিশু একবার খর্বাকায় হয়ে গেলে তার শারীরিক ও মানসিক ঘাটতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। শৈশবের এই পুষ্টিহীনতার প্রভাব কৈশোর ও বয়ঃসন্ধিকালেও গড়ায়। আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক বৈশ্বিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৯ বছর বয়সী তরুণীদের গড় উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুটের কাছাকাছি, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন গড় উচ্চতার দেশগুলোর অন্যতম। উদাহরণস্বরূপ, একই বয়সী নেদারল্যান্ডসের তরুণীদের গড় উচ্চতা বাংলাদেশের তরুণীদের তুলনায় অন্তত ৭ ইঞ্চি বেশি। ১৯৮৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ২০০টি দেশ ও অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের শারীরিক বৃদ্ধি পর্যালোচনা করে পরিচালিত ওই গবেষণায় বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে।
অলিগার্কদের প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করলে অর্থনীতি নদীতে গিয়ে পড়বে: ড. মাহবুব উল্লাহ। ইত্তেফাকের একটি শিরোনাম। এতে বলা হয়, জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, দেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান বেহাল দশা বা খেলাপি ঋণের প্রকোপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সামগ্রিক রোগ বা সিস্টেমের একেকটি ‘উপসর্গ’ মাত্র। বাংলাদেশের ব্যাংক খাত, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাও একই সঙ্গে সর্বগ্রাসী সংকটে আক্রান্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্র এবং রাজনীতি আজ গুটিকয়েক প্রভাবশালী ধনী বা ‘অলিগার্কদের’ স্বার্থে ব্যবহূত হচ্ছে, যা এই সংকটের মূল শেকড়। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সদিচ্ছা ছাড়া কেবল সুশাসনের বুলি আওড়ে কোনো সুফল মিলবে না। শুরুর দিকে ব্যাংক খাতের খেলাপি বা সংকটের সমস্যাটিকে ‘গ্রাহক
চেনাসংক্রান্ত’বা ‘কেওয়াইসি’ সমস্যা মনে হলেও পরবর্তী সময় এটি ব্যাংকার, অসত্ ব্যবসায়ী এবং খারাপ রাজনীতিবিদদের এক বিপজ্জনক ‘অশুভ জোট’ বা ‘নেক্সাস’এ পরিণত হয়েছে। এই সিন্ডিকেট বা অলিগার্কদের প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করলে অর্থনীতি কেবল লাইনচ্যুতই হবে না, বরং নদীতে গিয়ে পড়বে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন মন্তব্য করে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ একটি শোষণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা দখলকারী শাসকরা এ রাষ্ট্রকে জনগণের কল্যাণের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা না করে এটিকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সাম্রাজ্য বানিয়ে ফেলেছে, যেখান থেকে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অন্যায় সুযোগ-সুবিধা ও অনুগ্রহ বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত এই শোষণমূলক রাষ্ট্রের প্রকৃতি পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তর করা না যাবে, ততদিন কোনো খাতেরই স্থায়ী উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এ দেশে বারবার গণঅভ্যুত্থান ঘটলেও এবং মানুষ বারবার রক্ত ঝরালেও কোনো অর্থপূর্ণ সামাজিক বা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আসেনি, ফলে জনগণের মধ্যে হতাশা ও অধৈর্যের পুঞ্জীভূত রূপ দেখা যাচ্ছে। কেবল অভ্যুত্থানই কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং সঠিক আদর্শিক কাঠামো, জাতীয় পুনর্জাগরণের স্পষ্ট কর্মসূচি এবং নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বের মাধ্যমেই কেবল ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
দেশের বর্তমান সংকটের খুব সহসা সমাধান নেই বলেও মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, দেশ এক বিশাল সমস্যায় নিমজ্জিত যা কাটিয়ে উঠতে সময় ও কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। রাতারাতি কোনো জাদুকরী সমাধান বা অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। কারণ অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংশোধন এবং ব্যাংকার-রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ীর অনৈতিক চক্রের অবসান ঘটানো জরুরি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ইচ্ছাকৃত অনিয়ম এবং দুর্নীতি দূর করতে সামাজিকভাবে দুষ্কৃতকারীদের প্রতি ঘৃণা ও অনাস্থা প্রদর্শনের মাধ্যমেই কেবল সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও সুদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-ই-খোদা। ‘বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের মৌলিক সমস্যা : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় সমাধান’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যাংক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এলেও খেলাপি ঋণ, সুশাসনের অভাব, মূলধন ঘাটতি, তারল্যসংকট, অর্থ পাচার এবং ব্যাংকারদের নিম্ন উত্পাদনশীলতার মতো চ্যালেঞ্জের কারণে ব্যাংক খাতের সম্ভাবনা পুরোটা দৃশ্যমান হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাব, নমনীয় নীতিমালা, বারবার ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এ অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণকে আরো উসকে দিয়েছে।
পারিবারিক পরিচালকদের আধিপত্য ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের দক্ষতার অভাব ব্যাংক খাতে কাঠামোগত সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করেন বরকত-ই-খোদা। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংক খাত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে মাত্র ১০টির মতো ব্যাংক ভালো পারফর্ম করছে, অন্যদিকে বাকি ব্যাংকগুলোয় চরম সংকট তৈরি হয়েছে।
ব্যাংক খাতের এ পরিস্থিতি উত্তরণে বেশকিছু কাঠামোগত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে কৌশলগত কাঠামোর অধীনে আর্থিক খাতের বড় পুনর্গঠন চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত ব্যাংকের জট কমানো দরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে সুপরিচালনযোগ্য ব্যবস্থায় নামিয়ে আনা দরকার।
