সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেয়ার দাবিতে এই অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ‘সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশন’। সংগঠন দু’টিকে ইউপিডিএফ-সমর্থিত বলে দাবি করা হলেও তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
?ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ই অক্টোবর। সাজেকের উজোবাজারে সমাবেশ করে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় আন্দোলনকারী সংগঠন দু’টি। দাবি পূরণ না হওয়ায় ১১ই অক্টোবর প্রথম দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৫ই অক্টোবর দ্বিতীয় দফা এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিছুদিনের বিরতি দিয়ে ২২শে অক্টোবর থেকে শুরু হয় তৃতীয় দফার টানা অবরোধ, যা অব্যাহত রয়েছে।
সামবার বিকালে অবরোধকারী দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সংলাপে অংশ নেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, কমিটির সদস্য ও রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি এবং দুই জেলার পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান ও মো. আব্দুর রকিব। সড়ক অবরোধকারীদের মধ্যে সংলাপে অংশগ্রহণ করেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির প্রতিনিধি জিকু চাকমা, সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধি উষাতন চাকমা।
সংলাপে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৫টি দাবির মধ্যে ৪টি বিষয়ে সমঝোতা হলেও জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার শর্তে ঐকমত্য হয়নি। সূত্র মতে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পাহাড়ের যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে থাকে। তাই একটি পক্ষকে সরিয়ে দেয়ার মতো শর্ত গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা আটকে যায় এবং আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। আন্দোলনকারীদের অন্য চার দাবির মধ্যে রয়েছে- ২২শে অক্টোবরের ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দুই সেনা কর্মকর্তার বদলি, ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত একহাজার জনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাটের ক্ষতিপূরণ এবং গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধ করা। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনও একটি নির্দিষ্ট সশস্ত্র পক্ষকে সরিয়ে দেয়ার দাবি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এক পক্ষের দাবির বিপরীতে অন্য পক্ষও পাল্টা কর্মসূচি দিলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, টানা সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় খাগড়াছড়ি ও বাঘাইহাট থেকে চাল, ডাল, তেল ও শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। ফলে স্থানীয় বাজারগুলোর খুচরা দোকানে মালামালের শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং পণ্যের দামও আকাশচুম্বী। কাজ হারিয়ে দিশাহারা নিম্ন আয়ের মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকেরা এখন তিন বেলা খাবার জোটাতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক না হলে সাজেকে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
